সুনামগঞ্জে লিখিত মুচলেকা দিয়ে মাদক বিক্রি না করার অঙ্গীকার মা-ছেলের
মাদকের থাবা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে এবং সমাজে স্বাভাবিকভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে ৩০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন এক মা ও তাঁর ছেলে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কুনাটছড়া গ্রামের এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন কুনাটছড়া গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. বিলকিছ আক্তার (৪০) এবং তাঁর ছেলে শান্ত মিয়া (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই মা-ছেলে ইয়াবা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসী ও স্থানীয় 'মাদক নির্মূল কমিটি' কিছুদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। আইনগত ব্যবস্থা ও সামাজিক চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত শুধরে যাওয়ার আকুতি জানান তাঁরা।
পরবর্তীতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুনাটছড়া-পাঠানপাড়া গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে এবং স্থানীয় ৩ জন সাক্ষীর স্বাক্ষরে এই লিখিত মুচলেকা জমা দেন তাঁরা। লিখিত কাগজটি সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি ফারুক মিয়ার কাছে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে 'মাদক নির্মূল কমিটি (মানিক)' তাহিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সাজ্জাদ স্ট্যাম্পের ছবিটি ফেসবুকে প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা উভয় অঙ্গীকারকারী উপস্থিত জনতা ও সাক্ষীদের সামনে স্বীকার করছি যে, না বুঝে ও লোভের বশবর্তী হয়ে কিছুদিন ধরে মাদক কেনাবেচার মতো বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়েছিলাম। আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি। ভবিষ্যতে কখনো মাদক ক্রয়-বিক্রয়, গ্রহণ, বহন বা সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত হব না এবং এর ধারেকাছেও যাব না। আমাদের ক্ষমা করে এলাকায় শান্তিতে বসবাসের সুযোগ দিলে আমরা সমাজের সব নিয়মকানুন মেনে চলব। এই অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে সমাজ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা মাথা পেতে নেব।’
এ বিষয়ে মাদক নির্মূল কমিটি - আঞ্চলিক শাখা সভাপতি মিঠুন চৌধুরী বলেন, "মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের যন্ত্রণায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিলেন। একাধিকবার বারণ করার পরও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁরা ক্ষমা চান এবং পরদিন লিখিত অঙ্গীকার জমা দেন। ভালো পথে চললে স্বাগত, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সংগঠনের তাহিরপুর উপজেলা সভাপতি মো. সাজ্জাদ বলেন, "অভিযোগের পর তাঁরা শুধরে যাওয়ার সুযোগ চেয়েছিলেন। মুখের কথা বিশ্বাস না করে স্ট্যাম্পে লিখিত নেওয়া হয়েছে। আবার খারাপ কাজে লিপ্ত হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, "ওই মা-ছেলের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের একটি লিখিত অভিযোগের তদন্ত চলছে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে গ্রামবাসীর কাছে স্ট্যাম্পে মুচলেকা দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।"
ডিডি/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি - ২০২৬
মন্তব্য করুন: