ছাতকে মসজিদের জমিতে দোকান,দখলমুক্তির দাবিতে ইউএনওর কাছে আবেদন
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ নতুন বাজার জামে মসজিদের মালিকানাধীন ভূমি দখল করে দোকান নির্মাণ ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর গোবিন্দগঞ্জ নতুন বাজার জামে মসজিদের পক্ষে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে মসজিদের মালিকানাধীন ভূমির সীমানা, পরিমাপ ও পরিমাণ নির্ধারণ করে সরেজমিনে চিহ্নিত করার পাশাপাশি দখল হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গোবিন্দগঞ্জ নতুন বাজার জামে মসজিদ নামীয় এসএ রেকর্ডভুক্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তির ৩৫৭ নম্বর দাগসহ সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের কিছু ভূমি বাণিজ্যিক ও পতিত/লায়েক শ্রেণিভুক্ত। মসজিদসংলগ্ন মূল গলি থেকে ৩৫৭ নম্বর দাগের ওপর দিয়ে পুরোনো হাটবাজারের একটি রাস্তা সরকারি খাস খতিয়ানের ১৫৬ নম্বর দাগের হাটের রাস্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি কাদামাটি, পানি ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য এলাকাবাসী ও বাজার ব্যবসায়ীরা আবেদন করেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক প্রণব লাল দাসের সহযোগিতায় ইউনিয়ন প্রকল্পের আওতায় রাস্তার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে রাস্তার কাজ শুরুর আগেই নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ৩৫৭ নম্বর দাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত রাস্তার অংশ দখল করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বরাদ্দ পাওয়ার পরও রাস্তার নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় ভূমি রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে মসজিদের মালিকানাধীন ভূমির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ এবং সরেজমিনে চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তার জায়গা দখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধারে এবং প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন বলেন,অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুজন তালুকদার/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: