কালজয়ী সুরকার শচীন দেব বর্মণের জন্মদিন আজ

কালজয়ী সুরকার শচীন দেব বর্মণের জন্মদিন আজ

প্রথম ডেস্ক

০১/১০/২০২৬ ১১:৩৫:৩৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

‘শোনো গো দখিনো হাওয়া’, ‘তুমি এসেছিলে পরশু’ কিংবা ‘বর্ণে গন্ধে ছন্দে’—যুগ যুগ ধরে দুই বাংলার শ্রোতাদের হৃদয়ে দোলা দিয়ে যাওয়া এসব কালজয়ী সুরের জনকের আজ জন্মদিন। ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশের কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্ব শচীন দেব বর্মন, যিনি সংগীতাঙ্গনে ‘এস ডি বর্মণ’ বা পরম শ্রদ্ধায় ‘শচীন কর্তা’ নামে পরিচিত।

ত্রিপুরার বিখ্যাত চন্দ্রবংশীয় মানিক্য রাজপরিবারে জন্ম নেওয়া শচীন বর্মণের পিতা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মণ ছিলেন একজন সেতারবাদক ও ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী, আর মা নিরুপমা দেবী ছিলেন মণিপুরি রাজবংশের সন্তান। পরিবারের সুরের পরিবেশেই তার বেড়ে ওঠা। কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক পাসের পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই গায়ক হিসেবে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৩৪ সালে সর্বভারতীয় সংগীত সম্মেলনে গান গেয়ে ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁর মতো মহীরূহদের মুগ্ধ করেন তিনি।

কবি জসীমউদ্দীনকে দিয়ে নতুন রূপ দেওয়া তার কণ্ঠে ‘নিশিথে যাইয়ো ফুলবনে’ গানটি আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।

১৯৪০-এর দশকে মুম্বাই (তৎকালীন বোম্বে) পাড়ি জমান শচীন দেববর্মণ। এরপর মাটির ঘর, তেরে ঘর কে সামনে, মিস ইন্ডিয়া, প্রেম পূজারীর মতো অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেন। লতা মঙ্গেশকর, মোহাম্মদ রফি, আশা ভোসলে, মান্না দে, গীতা দত্ত ও তালাত মাহমুদের মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা তার সুরে গান গেয়ে ধন্য হয়েছেন।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পদ্মশ্রী, সংগীত নাটক একাডেমি অ্যাওয়ার্ড, ফিল্মফেয়ার সেরা সংগীত পরিচালকসহ দেশ-বিদেশের বহু মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে ভূষিত হন। ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর এই মহান শিল্পী সুরের ভুবন ছেড়ে বিদায় নেন।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad