বিএনপির এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের নির্দেশনা মহানগর বিএনপির অন্যতম শীর্ষ এক নেতার মাধ্যমে ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ওই নেতা বর্তমানে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
তবে পদত্যাগের বিষয়ে ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি কিছু জানেন না বলে ফোন কেটে দেন।গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনার পর মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে আসে।
ওইদিন মধ্যরাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও অভিযোগ ছিল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নও তৈরি হয়েছিল।এ অবস্থায় ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের আলোচনা বিএনপির চলমান সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে তিনি কবে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন, কিংবা শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করবেন কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।এদিকে রাজধানীর উত্তর অংশে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়েও পরিবর্তন এসেছে।
গতকাল ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই দিনে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত করা হয়েছে। ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়েও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পূজা বাড়াইক/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: