সুনামগঞ্জে পুড়ল বসতঘর :দিশেহারা ৭ সদস্যের পরিবার
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মনির মিয়া নামে এক ব্যক্তি। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তাঁর বসতঘর, ঘরে থাকা নগদ টাকা ও আসবাব।
মুহূর্তেই সব হারিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তানসহ সাত সদস্যের পরিবারটি নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত হাছন আলীর ছেলে মনির মিয়া অটোরিকশা চালিয়ে অর্জিত আয় দিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাতেন। ঘটনার সময় তিনি জুমার নামাজের জন্য গ্রামের মসজিদে ছিলেন। মসজিদেই প্রথম তাঁর ঘরে আগুন লাগার খবর পৌঁছায়।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে মনির মিয়ার পুরো বসতঘর, অটোরিকশা, আসবাব, এনজিওর ঋণের নগদ টাকাসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
একই গ্রামের বাসিন্দা রায়হান আহমেদ বাদশা বলেন, পরিবারটির মাথা গোঁজার ঠাঁইসহ আর অবশিষ্ট কিছুই রইল না। এরা এখন কীভাবে চলবে, তা বলা কঠিন। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের জরুরি ভিত্তিতে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো উচিত।
ক্ষতিগ্রস্ত মনির মিয়া আকুতি জানিয়ে বলেন, কীভাবে আগুন লেগেছে বুঝতে পারিনি। সম্প্রতি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া সম্পূর্ণ টাকাও ঘরে রাখা ছিল। উপার্জনের শেষ সম্বল অটোরিকশাটিও পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে আমার প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমার পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে উপজেলার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় অনুদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: