নবীগঞ্জে থানা হাজতে থেকেও ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

২ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

নবীগঞ্জে থানা হাজতে থেকেও ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

নিজস্ব প্রতিনিধি., নবীগঞ্জ

২৪/১০/২০২৬ ১৯:০৩:৫৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানা হাজতে থাকা অবস্থায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা শাহ তপুর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক নারী কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন,নবীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী এবং নারী কনস্টেবল আফসানা মিমি।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে শাহ তপুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের শাহ ফিরোজ মিয়ার ছেলে। একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নবীগঞ্জ থানা হাজতে রাখা হয়।

পরবর্তীকালে থানা হাজতে থাকা শাহ তপুকে পানি দিতে যান একই গ্রামের শাহ শুকুর আলীর ছেলে শাহ জুয়েল। অভিযোগ রয়েছে, পানি দেওয়ার একপর্যায়ে তিনি নিজের মোবাইল ফোনে কৌশলে শাহ তপুর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে তপুকে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায়।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে থানা হাজতের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে চরম সমালোচনা শুরু হয়। হাজতের মতো একটি সুরক্ষিত স্থানে কীভাবে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও ধারণ করা সম্ভব হলো-তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ওঠে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণকারী শাহ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকেও উক্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায়। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী ও নারী কনস্টেবল আফসানা মিমিকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন প্রথম সিলেটকে জানান, "সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় শাহ তপুকে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। জুয়েল নামে একজন তাকে পানি দিতে গিয়ে কৌশলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।"

স্বপন রবি দাশ/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad