ওসমানীনগরে নতুন পিআইও’র যোগদান ‍নিয়ে তোলপাড়
Led Bottom Ad

ওসমানীনগরে নতুন পিআইও’র যোগদান ‍নিয়ে তোলপাড়

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০১/০৯/২০২৫ ০০:১০:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের ওসমানীনগরে যোগদানের আগেই নতুন পিআইও কে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘুষ–দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলোতে তিনি বিতর্কিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এমন খবরে উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। 


জানা গেছে, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের ওসমানীনগরে নতুন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে যোগদান করতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আলী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২৮ আগস্ট এক অফিস আদেশে তাকে পটুয়াখালীর দুমকি থেকে বদলি করে ওসমানীনগরে পদায়ন করে। স্থানীয়দের শঙ্কা—এমন একজন কর্মকর্তা যোগদান করলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হবে।


জানাগেছে, মোহাম্মদ আলীর চাকরি শুরু হয় খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। দায়িত্ব পালনকালে ৯টি সেতুর মধ্যে ৫টির বিল প্রদানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ ওঠে। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে পদোন্নতিযোগ্য তালিকা থেকে তিন বছরের জন্য বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে বদলি করা হয়। প্রায় আট বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। আশ্রয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, উন্নয়নমূলক কাজে বাধা এবং ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে টিআর-কাবিখার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সমালোচিত হন তিনি। এসব অভিযোগ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় তিনি বদলী হন।  অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ঘুষ–দুর্নীতি, কমিশন গ্রহণ এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আরেকটি বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়।


সর্বশেষ তিনি কর্মরত ছিলেন পটুয়াখালীর দুমকিতে। সেখানে টিআর প্রকল্পের বিল ছাড় করতে গিয়ে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের স্বামীর কাছে ৪৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ। প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার বিল প্রদানের সময় ঘুষের এই দাবি ফাঁস হয়ে অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর পরপরই তাকে ওসমানীনগরে বদলি করা হয় বলে স্থানীয় মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।


ওসমানীনগরে শঙ্কা

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, “এমন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা যদি এখানে দায়িত্ব নেন, তবে উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হবে।”


প্রশাসনের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।


ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, “তিনি এখনো যোগদান করেননি। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের অধীনে প্রথমে যোগ দেবেন। দায়িত্ব নিলে এবং যদি কোনো অভিযোগ ওঠে, তবে তা খতিয়ে দেখা হবে।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad