ভাতার অপেক্ষায় দিন কাটছে শাল্লার সৈলেন-সুজতা দম্পতির

এক পরিবারে দুই প্রতিবন্ধী

ভাতার অপেক্ষায় দিন কাটছে শাল্লার সৈলেন-সুজতা দম্পতির

প্রীতম দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

০২/১১/২০২৬ ২২:১০:২১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার চাকুয়া গ্রামের সৈলেন সূত্রধর জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাঁর স্ত্রী সুজতা সূত্রধরও এক চোখে দেখতে পান না। অন্ধত্ব আর চরম অভাবের সাথে লড়াই করে কাটছে তাঁদের সংসার। দম্পতির ঘরে রয়েছে দুটি অবুঝ সন্তান। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিক কাজ বা উপার্জনের সামর্থ্য না থাকায় মানুষের সাহায্য-সহযোগিতার ওপর ভর করেই কোনোমতে চলছে এই চার সদস্যের সংসার। চরম অনটনে দিন কাটলেও পরিবারটির এই কষ্ট যেন দেখার কেউ নেই।

প্রায় ১২ বছর আগে শাল্লা উপজেলার আঙাউড়া গ্রামের কৃষ্ণ সূত্রধরের মেয়ে সুজতা সূত্রধরের সঙ্গে বিয়ে হয় সৈলেনের। বিয়ের পর দম্পতির ঘরে দুই সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী দুজনেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সন্তানদের লালন-পালন ও জীবনধারণ তাঁদের জন্য চরম কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। পরিবারের দিনসংস্থান, সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।

সৈলেন সূত্রধর সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও তাঁর স্ত্রী সুজতা এখনো ভাতার আওতায় আসেননি। দীর্ঘদিন আগে সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করলেও তা অপেক্ষমাণ রয়েছে। একই পরিবারে দুজন প্রতিবন্ধীর মধ্যে একজন সুবিধা পেলেও অন্যজন তা না পাওয়ায় সংকট আরও প্রকট রূপ নিয়েছে।

সৈলেনের বৃদ্ধা মা অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন, “আমরা অসহায় ও গরিব মানুষ। আমার ছেলে সৈলেন জন্ম থেকেই অন্ধ। বিয়ে দিয়েছি, কিন্তু বৌটাও এক চোখে দেখে। তার বৌয়ের এখনো সরকারি ভাতা হয়নি। যদি বৌয়ের ভাতা চালু হতো এবং সরকার বা দেশ-বিদেশের বিত্তবান মানুষগুলো একটু সাহায্য করতেন, তবে হয়তো আমাদের সংসারটা ভালোভাবে চলত।”

প্রতিবেশী বাদল সূত্রধর জানান, সৈলেন জন্মান্ধ হয়েও মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চেয়ে সংসার চালান। তাঁর স্ত্রীর অবস্থা একই। সরকারি ভাতাসহ একটু মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটির সুদিন ফিরত।

এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী জানান, সুজতা সূত্রধরের ভাতার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই তাঁর ভাতা চালু করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, চরম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অর্থসংকটে পরিবারটি মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। তাই কেবল ভাতার আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত ভাতা চালু এবং পরিবারটির স্থায়ী সামাজিক ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

জন্মান্ধ স্বামী ও এক চোখে ঝাপসা দেখা স্ত্রীকে নিয়ে অসহায় এই পরিবারের এখন একটাই আকুতি—সরকারি সুবিধার পাশাপাশি সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান মানুষ যেন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। একটু সহযোগিতায় দুই সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার পাশাপাশি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে দুস্থ পরিবারটি।

হিফজুর রহমান/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad