নবীগঞ্জে ইউএনওর হস্তক্ষেপে স্বপদে ফিরলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
জুলাই আন্দোলনের প্রায় এক বছর পর অবশেষে প্রতিষ্ঠানে স্বপদে বহাল হলেন নবীগঞ্জের কুর্শি ইউনিয়নের ঘোলডুবা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন। গত বছর জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের চাপের মুখে প্রতিষ্ঠান ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘদিন চেষ্টা করলেও পারছিলেন না বিদ্যালয়ে ফিরতে। এদিকে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার মান দিন দিন খারাপ থেকে খারাপতর অবস্থার দিকে যাচ্ছিল। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার যোগদান করার পরপরই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রতিষ্ঠান এর সকল শিক্ষক, এলাকার সর্বসাধারণ এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের কে সাথে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এলাকাবাসীর অনীহার কারণে বিষয়টি সুরাহা করা সম্ভব হচ্ছিল না।
অবশেষে (১৬ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবাইকে নিয়ে তার অফিস কক্ষে বসেন। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা আলোচনার পর উপস্থিত সবাই প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিনের প্রতিষ্ঠানে যেতে বাধা নেই মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নিশ্চিত করেন। প্রধান শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানে ফিরতে তারা সহযোগিতা করবেন মর্মেও জানান।
তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিনের প্রশংসা করে বলেন, এটা শুধু মাত্র উনার মহৎ উদ্যোগ এবং দূরদর্শিতার কারণেই সম্ভব হয়েছে। তিনি যেভাবে আন্তরিকতার সাথে আমাদের সময় দিয়েছেন, আমাদের কথা শুনেছেন, আমাদের আর কোন অভিমান নেই। কিভাবে ভালোবাসার মাধ্যমে এত বড় একটি বিষয় সমাধান করা যায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমাদের ইউএনও। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আমরা উনার সব আদেশ মেনে নিব। উপস্থিত সকলে ঘোলডোবাবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদও জ্ঞাপন করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, উপস্থিত সকল সুধীজনের সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। সকল কৃতিত্ব তাদের। আমি শুধু চেয়েছি প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। প্রতিষ্ঠানটিতে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির মাধ্যমে ইন্টার্নাল অডিট করানো হবে। যদি কোন প্রকার অসংগতি পাওয়া যায়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মেও জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে উপজেলা প্রশাসন এর উপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: