যানজটে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি
মাধবপুরে মহাসড়ক দখল করে রিকশার দাপট
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকায় রিকশার বেপরোয়া চলাচল ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং দূরপাল্লার যাত্রী সাধারণ। বিশেষ করে মাধবপুর বাজার এলাকায় মহাসড়ক দখল করে শত শত রিকশা এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যাতায়াতে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের মাধবপুর বাজার অংশে রিকশাচালকরা ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করে সড়কের মাঝখানেই যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। ব্যস্ততম এই সড়কের অর্ধেক জায়গা রিকশার দখলে থাকায় বাস ও ট্রাকসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ আহমেদ জানান, মহাসড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। প্রতিদিন কাজে যাওয়ার সময় বাজার এলাকায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট যানজটে আটকে থাকতে হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পরিবহন চালকরাও এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাসচালক জাহিদ হোসেন জানান, রিকশার কারণে হঠাৎ ব্রেক চাপতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার উপক্রম হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রণয় পালের মতে, বাজারে নির্দিষ্ট রিকশা স্ট্যান্ড না থাকায় চালকরা যেখানে-সেখানে রিকশা দাঁড় করিয়ে রাখছেন, যা ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত নির্দিষ্ট স্থানে স্ট্যান্ড স্থাপন ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে মাধবপুর ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, জনসচেতনতার অভাব ও বিকল্প ব্যবস্থার অভাবে সমস্যাটি পুরোপুরি দূর করা যাচ্ছে না। তবে শিগগিরই বিশেষ অভিযান চালিয়ে মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, মহাসড়কে রিকশার অবস্থান ও যানজট সৃষ্টির বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: