ছাতকে নারী শ্রমিকদের দুর্গতি: মজুরি বৈষম্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কাটছে জীবন
সুনামগঞ্জের শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত ছাতক উপজেলায় শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন দুঃসহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা চরম মজুরি বৈষম্য ও মানবেতর পরিস্থিতির শিকার হয়েও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পেরিয়ে গেলেও এই বিশাল শ্রমগোষ্ঠীর ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম টয়লেট সুবিধার অভাব তাঁদের জীবনকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
সরেজমিনে সুরমা নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, ৬৫ বছর বয়সী রোকিয়া বেগম স্বামী ইমান আলীকে সাথে নিয়ে বাল্কহেড নৌকায় পাথর লোডিংয়ের কাজ করছেন। ১৫ বছর ধরে এই হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও অভাবের কারণে ছয় সন্তানের কাউকেই ঠিকমতো লেখাপড়া করাতে পারেননি। বর্তমানে সপ্তাহে ৪-৫ দিন কাজ করে তাঁদের দৈনিক আয় হয় মাত্র ৫০০ টাকা। একই অবস্থা নোয়ারাই ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বিধবা রেজিয়া বেগমের। স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে তিনি বালু লোডিংয়ের কাজ বেছে নিয়েছেন। কিন্তু শ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক পাচ্ছেন নামমাত্র।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাতকের বিভিন্ন পাথর ও বালু লোডিং সাইটে শত শত নারী শ্রমিক প্রতিদিন ৮-৯ ঘণ্টা কাজ করেও পুরুষদের তুলনায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম মজুরি পাচ্ছেন। যেখানে একজন পুরুষ শ্রমিক দিনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করেন, সেখানে নারী শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকা। এছাড়া কর্মস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা বা স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। গুরুতর আহত হলে চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে অনেক শ্রমিককে বিনাচিকিৎসায় বাড়িতে পড়ে থাকতে হয়।
এ বিষয়ে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা জানান, মজুরি বৈষম্য সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাতৃত্বকালীন ভাতার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উপপরিচালক এ.জে.এম. রেজাউল আলম বিন আনছার নারী-পুরুষের এই মজুরি বৈষম্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: