মৌলভীবাজারে অপরিকল্পিত শহরায়ন: জলাবদ্ধতা ও যানজটে ভোগান্তি চরমে
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র ২০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘রবিরবাজার’ বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বাজারে দুই হাজারেরও বেশি দোকান থাকলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ব্যবসায়িক পরিবেশ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ও দোকানে পানি ঢুকে সৃষ্টি হচ্ছে চরম জলাবদ্ধতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রবিরবাজারকে কেন্দ্র করে কুলাউড়া-রবিরবাজার-ঝিলেরপার, কর্মধা ও টিলাগাঁও সড়কগুলোর দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মানা হয়নি। এলজিইডি ও সড়ক ও জনপদ বিভাগ সড়ক নির্মাণ করলেও কোনো স্থায়ী নালা বা ড্রেন তৈরি করেনি। ফলে বৃষ্টির নোংরা পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে সড়কে জমে থাকে, যা স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বাজারের পুকুরগুলোতে যত্রতত্র ময়লা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জরাজীর্ণ শেডঘরগুলো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি, রবিরবাজার থেকে টিলাগাঁও সড়কের থামা গাঙ পর্যন্ত এবং পূর্ব রবিরবাজার থেকে শুকনাছড়া পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ করলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এছাড়া রাস্তার ওপর ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনে বাইপাস সড়কের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মাসুক আহমদ। তিনি জানান, সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও বাজারের উন্নয়নে কোনো দৃশ্যমান কাজ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় জানান, আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শেষ হলে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রস্তাব পাঠানো হবে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আক্কাছ আলী জমি অধিগ্রহণের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন বলেন, রবিরবাজারের গুরুত্ব বিবেচনা করে যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: