বিশ্বনাথে এক রাতেই পানির নিচে ৯৫ হেক্টর বোরো ধান: দিশেহারা কৃষক
Led Bottom Ad

বিশ্বনাথে এক রাতেই পানির নিচে ৯৫ হেক্টর বোরো ধান: দিশেহারা কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিশ্বনাথ

০২/০৫/২০২৬ ১৩:২৩:৫১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে প্রায় ৯৫ হেক্টর বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাত্র এক রাতের ব্যবধানে পাকা ধান ডুবে যাওয়ায় উপজেলার নিম্নআয়ের কৃষকেরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। পুরো মৌসুমের বিনিয়োগ ও হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরপাড়ের মানুষ।

সরেজমিনে উপজেলার বৃহত্তম চাউলধনী হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে থৈ থৈ করছে পানি। কোথাও কোথাও ধানের শীষ সামান্য উঁকি দিলেও অধিকাংশ জমিই এখন গভীর পানির নিচে। পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় অধিকাংশ কৃষক জমিতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে অনেককে কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে দেখা গেছে। এই ভেজা ধান নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় করে কোনোমতে বাড়িতে নিচ্ছেন তারা। এদিকে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে ধান মাড়াই ও শুকানো নিয়ে। বৃষ্টির কারণে বাড়ির উঠানে স্তূপ করে রাখা ভেজা ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিশ্বনাথে ৭ হাজার ৩০৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। তবে অবশিষ্ট থাকা ধানের মধ্যে ৯৫ হেক্টর জমি সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দৌলতপুর ইউনিয়নের মীরগাঁও গ্রামের কৃষক নিজাদ উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “এক রাতেই আমার ৬ বিঘা জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে আজ এই দিন দেখতে হতো না।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, দুর্যোগের পূর্বাভাস পেয়ে কৃষকদের আগেই দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত জমির ধান কৃষকেরা কষ্ট করে সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিছুটা কম হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad