বর্ষণে শ্রীমঙ্গলের দুর্দশা: সড়ক ডুবে, ক্লাস বন্ধের শঙ্কা
টানা ভারী বর্ষণে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল যেন পরিণত হয়েছে এক জলাবদ্ধ নগরীতে। শহরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে, বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি, আর বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। একটানা বৃষ্টির এই দুর্ভোগে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যেন থমকে গেছে।
শুক্রবারের ভারী বৃষ্টির পর শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাড়াউড়া, পূর্ব শ্রীমঙ্গল, সবুজবাগ, লালবাগ, রুপসপুর এবং আশিদ্রোন ইউনিয়নের রামনগর, গাজিপুর, মুসলিমবাগসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
জলাবদ্ধতার কারণে অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। রান্নাঘর, শোবার ঘর, উঠান—সবখানেই পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি। নিচু এলাকার দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য ছোট যানবাহন চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গাজিপুর ও ভাড়াউড়া সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যাতায়াত হয়ে উঠেছে কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।
বিদ্যালয়ে পানি, ব্যাহত হচ্ছে পরীক্ষা ও ক্লাস
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে পশ্চিম ভাড়াউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে থাকায় নিয়মিত ক্লাস ও চলমান পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।
সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবেল আহমদ বলেন,“একটু বৃষ্টি হলেই পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রাম তলিয়ে যায়। এবারও বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। শিশুদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
মুসলিমবাগ এলাকার বাসিন্দা কালাম আহমদ বলেন, “ভারী বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকা ডুবে যায়। গাজিপুর, রামনগর সড়ক ও কবরস্থান পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। মানুষ খুব কষ্টে আছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় মানুষের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।
১৬০.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি, আরও বৃষ্টির আশঙ্কা।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ৩০ ঘণ্টায় ১৬০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া এপ্রিল মাসে মোট ৪৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন,“যেসব স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব, সেখানে কাজ করা হচ্ছে। আর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দাদের এখন একটাই প্রত্যাশা—প্রতি বর্ষায় ডুবে যাওয়া নয়, স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন। যেন বৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়, দুর্ভোগ নয়।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: