শাল্লায় তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন: হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে
Led Bottom Ad

শাল্লায় তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন: হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে

নিজস্ব প্রতিনিধি, শাল্লা

০২/০৫/২০২৬ ২১:১৩:১২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই তলিয়ে গেছে কৃষকদের সারা বছরের স্বপ্ন। মাত্র দুই-তিন দিন আগেও যেখানে মাঠজুড়ে সোনালি ফসলের সমারোহ ছিল, সেখানে এখন কোমর থেকে গলা সমান পানি। উপজেলার ছায়া হাওর, কালিয়ারকোটা, ভরাম, ভান্ডাবিল, ভেড়াডহর ও উদগলসহ সবকটি বড় হাওর ঘুরে দেখা গেছে একই হৃদয়বিদারক চিত্র।

হবিবপুর গ্রামের কৃষক বিশ্বরূপ দাস তাঁর দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, "৫৩ কের জমিতে আবাদ করেছিলাম, যার মধ্যে মাত্র ১৮ কের কোনোমতে কাটতে পেরেছি। কিন্তু রোদ না থাকায় খলায় রাখা সেই ধানেও চারা গজিয়ে পচন ধরেছে। এখন সংসার চালানো আর ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানো নিয়ে চোখে সর্ষে ফুল দেখছি।" একই হাহাকার শোনা গেল জাতগাও গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের কণ্ঠে। ৪০ কের জমি চাষ করলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে না পারায় তাঁর ধান রাখার গোলা এবার শূন্যই থাকছে।

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের উপজেলা সদস্য সচিব আনোয়ার হোসাইন এই পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ ও জলাবদ্ধতাকে দায়ী করেন। তিনি দাবি জানান, প্রতিটি বাঁধে অবিলম্বে স্লুইসগেট নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম করা না হলে প্রতিবছরই কৃষকদের এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় জানান, উপজেলায় এ বছর ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল। মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সব ধান কাটার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আকস্মিক দুর্যোগে তা ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, প্রশাসন নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছে এবং সরকারি কোনো প্রণোদনা বা অনুদান আসলে তা দ্রুত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad