জাফলংয়ে আতঙ্কের ছায়া: বিতর্কে সাবেক চেয়ারম্যান মামুন পারভেজ
সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তবর্তী পর্যটন এলাকা জাফলংয়ে এক সাবেক চেয়ারম্যানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মামুন পারভেজ প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, মামুন পারভেজ একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও এলাকায় প্রকাশ্যে অবস্থান করছেন এবং এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এই চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদকে ঘিরে অনিয়ম, বালু-পাথর মহাল নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান–সংক্রান্ত নানা অভিযোগও তার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে আলোচিত।
স্থানীয়দের দাবি, ইউপি কার্যালয়ের একটি কক্ষকে তিনি ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে রেখে বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলছেন, গুরুতর মামলার আসামি হয়েও তার প্রকাশ্য উপস্থিতি প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।”
অন্যদিকে, মামুন পারভেজের বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নম্বর: ৫০/৫৮৭) এবং গোয়াইনঘাট থানায় আরও একটি মামলা (জিআর ১৯১/২৪) রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর ওসিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে সিলেটের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, এলাকায় তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। জাফলং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফেরাতে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: