উপযোগীতা থাকলেও নেই কোন বিনোদন কেন্দ্র
Led Bottom Ad

সমৃদ্ধ জনপদ জগন্নাথপুর

উপযোগীতা থাকলেও নেই কোন বিনোদন কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর

১৩/০৬/২০২৫ ০৭:৪৬:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

অপার সম্ভাবনা এবং সমৃদ্ধির অঞ্চল সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর। প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলে জন্ম হয়েছে অনেক ক্ষণজন্মা মানুষের। যারা নিজ নিজ কর্মগুনে দেশে-বিদেশে বিশেষভাবে সমাদৃত। জগন্নাথপুরকে বলা হয় ‘দ্বিতীয় লন্ডন’। এর কারণ জগন্নাথপুরের সিংহভাগ মানুষ যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মধ্যেপ্রাচ্যেসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখানকার অধিকাংশ মানুষ বসবাসরত রয়েছেন। অভাবী মানুষের সংখ্যা এই উপজেলায় কম থাকলেও থাকলেও চিত্ত বিনোদনের অভাব বিরাজ করছে সর্বত্র। 


সকল উপযোগীতা থাকলেও সমৃদ্ধ এই জনপদে অধ্যাবধি গড়ে উঠেনি কোন বিনোদন কেন্দ্র বা পর্যটন স্পট। 

দেশের অর্থনীতিতে জগন্নাথপুরের রেমিটেন্স যোদ্ধারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। অথচ অবকাশকালীন সময় কাটানোর জন্য স্থায়ী কোন পর্যটন কেন্দ্র কিংবা বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। ফলে পথে প্রান্তে ঘুরে অবকাশকালীন সময় কাটাতে হচ্ছে ভ্রমণ পিপাসুদের। তবে বিত্তশালী পরিবারের লোকজন সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রে ছুটতে দেখা গেছে।


স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জগন্নাথপুরবাসীর এই আকুতি দীর্ঘদিনের। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও এখানে কোন বিনোদন বা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। ফলে ভবনের ছাদে, সড়কে, সেতু ও পুকুরপাড়ে বিনোদন পিপাসুরা ভিড় করছেন। ছুটছেন দেশের বিভিন্ন জায়গার পর্যটন কেন্দ্রে।


কোন বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় এই অঞ্চলের মানুষ কুশিয়ার নদীর উপর নির্মিত সিলেটে বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় রানীগঞ্জ সেতুতে এসে আড্ডা জমায়। প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই সেতুঁতে সব বয়সী মানুষের ঢল নামে।  এছাড়াও চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের কবিরপুরে আব্দুল হান্নান ছুফি মিয়া চৌধুরীর পুকুরপাড়ে দর্শার্থীদের ভিড় দেখা যায়।


সচেতন মহল মনে করছেন, উপজেলার সদরের খাদ্যগুমানের পাশের নলজুর নদীর তীরে, রানীগঞ্জ সেতু এলাকায়, মইয়ার হাওরের মহাসড়কের পাশে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠার। এছাড়াও সংস্কারহীন পরিত্যক্ত পাইলগাঁও জমিদার বাড়ি সংরক্ষণ করলে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠার ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। অনেকদিন ধরেই এখানে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনার দাবি উঠলেও বাস্তবায়নে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি জগন্নাথপুরে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব পেত।


জগন্নাথপুর নাগরিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক এম এ কাদির বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় নাগরিকদের বিনোদনের জন্য এখন পর্যন্ত কোন পর্যটন বা বিনোদন কেন্দ্র গড়ে না উঠা দুঃখজনক। আমরা কয়েকজন প্রবাসী মিলে এই সংকট দূর করতে একটি ওয়াটার পার্ক ও রিসোর্স সেন্টার করার উদ্যোগ নিয়েছি। সুনামগঞ্জ আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর রানীগঞ্জ সড়কের মধ্যস্থলে ইতোমধ্যে জায়গা ক্রয় করা হয়েছে।


জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, জগন্নাথপুর উপজেলায় সরকারিভাবে একটি পর্যটন বা বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে আমার দায়িত্বকালীন সময়ে দাবি জানিয়েছিলাম। প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে এ উপজেলায় তাই দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া দরকার।


জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, জগন্নাথপুরে আমি নতুন এসেছি। পর্যটন কেন্দ্র বিষয়ে আমরা পর্যালোচনা করব। এটি প্রয়োজন। সরকারি, বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে সব ধরণের সহযোগিতা থাকবে আমার।


মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad