সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়
Led Bottom Ad

পাল্টাপাল্টি যুক্তি ও হট্টগোল

সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়

প্রথম ডেস্ক

২৮/০৪/২০২৬ ২০:৩৭:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা চলাকালীন বিরোধী দলের সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে ফজলুর রহমান বক্তব্য দিতে গেলে সংসদ কক্ষ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে ফজলুর রহমান নিজের বয়স ও মর্যাদা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিরোধী দলের লোকজন আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকেন। আমার বয়স ৭৮ বছর, আমি বিরোধী দলীয় নেতার চেয়ে ১০ বছরের বড়। তবুও তাঁরা আমাকে অসম্মান করেন।” এ সময় স্পিকার তাঁকে অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য না করার অনুরোধ করলেও তিনি জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কঠোর মন্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, “বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন তিনি শহীদ পরিবারের সন্তান, আবার তিনি জামায়াতে ইসলামী করেন—এটি ‘ডাবল অপরাধ’। কোনো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য জামায়াত করতে পারেন না।”

ফজলুর রহমানের এই মন্তব্যের সাথে সাথেই বিরোধী বেঞ্চ থেকে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। সংসদ কক্ষে শোরগোল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্পিকার বারবার শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানান। ফজলুর রহমান আরও দাবি করেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সহিংসতা ও পুলিশ হত্যার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হতে হবে এবং দায়ীদের কোনোভাবেই দায়মুক্তি দেওয়া যাবে না।

পরবর্তীতে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে জামায়াতের আমীর ও সংসদে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “ফজলুর রহমান বয়সে বড় হয়েও অন্যের অবদানের ওপর ‘হাতুড়ি পেটানোর’ চেষ্টা করছেন। তিনি আমার ব্যক্তিগত পরিচয় ও আদর্শ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে গুরুতর অপরাধ করেছেন।” শফিকুর রহমান আরও যোগ করেন, “যুক্তি যখন ফুরিয়ে যায়, তখনই মানুষের মাথা গরম হয়। গালি দিয়ে বা গলাবাজি করে কিছু অর্জন করা যায় না।” তিনি ফজলুর রহমানের বক্তব্যের বিতর্কিত অংশগুলো ‘অসংসদীয়’ আখ্যা দিয়ে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) অনুরোধ জানান।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং রুলস অব প্রসিডিউর মেনে সংসদ পরিচালনার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেন। স্পিকার জানান, দুই নেতার বক্তব্যে যদি কোনো অসংসদীয় শব্দ বা উক্তি থেকে থাকে, তবে তা পরীক্ষা করে নিয়ম অনুযায়ী এক্সপাঞ্জ করা হবে। এই হট্টগোলের কারণে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘক্ষণ বিঘ্নিত হয়।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad