উৎকণ্ঠায় শতশত পরিবার
শাল্লায় নদীভাঙন আর বালু উত্তোলনে আতঙ্ক
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার কালনী নদীর তীরে যেন এক নীরব কান্না। বছরের পর বছর নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছেন অসংখ্য পরিবার। কেউ ঘর হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ আবার শেষ সম্বল আঁকড়ে ধরে আছেন আতঙ্ক নিয়ে।
স্থানীয়দের ভাষায়, ভাঙনের সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি—এর মধ্যেই নতুন করে শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন। সড়ক উন্নয়নের নাম করে ড্রেজার বসিয়ে প্রতিদিন নদী থেকে তোলা হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট বালু। এতে তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে নদীপাড়ের বসতবাড়ি, ফসলি জমি আর স্বপ্নে গড়া জীবনের আশ্রয়।
শাল্লা ও জলসুখা এলাকার মানুষ বলছেন, নদী এখন আর শান্ত নেই—প্রতিদিনই যেন একটু একটু করে গিলে খাচ্ছে বসতভিটা। অনেকে চোখের সামনে ভাঙতে দেখছেন নিজেদের ঘর, তবুও কিছুই করতে পারছেন না।
অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক অনুমোদনের কথা বলে শাল্লা উপজেলার সীমান্তবর্তী অংশ থেকেও বালু উত্তোলন চলছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কেবল নির্দিষ্ট এলাকায়, শাল্লার অংশে নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, তারা নিয়ম মেনেই কাজ করছে। কিন্তু নদীর কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের প্রশ্ন একটাই—উন্নয়নের নামে কি তবে আমাদের শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নেওয়া হবে?
স্থানীয়দের চোখে এখন শুধু ভয় আর অনিশ্চয়তা। কেউ ভাবছেন আগামী বর্ষায় কী হবে, কেউ আবার নীরবে গুনছেন হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষার দিনগুলো…
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: