ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে শিক্ষক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি
দেশে শিক্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদে সারা দেশের ন্যায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুজায়ী অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতিতে গেছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার সকল এমপিও ও ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ। সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।
জানা যায়, বিভিন্ন দাবী আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুজায়ী দেশের সকল এমপিও ও ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীর কর্মবিরতি, অনশন ও বিক্ষোভ মিছিলকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার সকল এমপিও ও ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ অনির্দিষ্ট কালের জন্য এই কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক খান ও ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র তালুকদার বলেন, দেশে শিক্ষক নির্যাতন, তাদের বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও শতভাগ উৎসব ভাতার দাবীতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের সাথে একাত্মতা পোষণ করে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুজায়ী আমরা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার সকল এমপিও ও ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ অনির্দিষ্ট কালের জন্য এই কর্মবিরতি শুরু করেছি।
এছাড়া আরও বলেন, আমরা প্রতিদিন যথা সময়ে প্রতিষ্ঠানে এসে হাজিরা দিবো কিন্তু অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করবো না। আর যতদিন পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি আদায়ের সুষ্ঠু কোনো সুরাহা না হয় ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই কর্মবিরতি চলবে। এই কর্মবিরতি পালনের আজ দ্বিতীয় দিন চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষানগরী কয়েকজন বলেন, এইভাবে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় তাহলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা রসাতলে চলে যাবে। শিক্ষার দিক থেকে আমাদের দেশ অনেক পিছিয়ে পড়বে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি আদায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো সচল অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম কবির বলেন, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দের কর্মবিরতি পালনের বিষয়টি আমি অবগত আছি। তারা তাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুজায়ী এই কর্মবিরতি পালন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ আন্দোলনে যোগদান করতে ঢাকায় চলে গেছেন। তবে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো কোনো কর্মবিরতিতে যায়নি। তারা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম যথাযথ ভাবে পালন করছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: