সরকারি গাছ কাটার অভিযোগেও কোনো ব্যবস্থা নেই
বিএনপি নেতার দাপটে দখল হয়ে যাচ্ছে পান্ডারখাল বাঁধ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার অর্ধশত বছরের পুরোনো পান্ডারখাল বাঁধ এখন অবৈধ দখল আর বালু–পাথরের ব্যবসায়ীদের কবলে। সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু অভিযোগের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব মাছিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ৩ নম্বর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পান্ডারখাল বাঁধের একটি অংশ দখল করে বালু–পাথরের ব্যবসা করছেন। সম্প্রতি তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাঁধের সরকারি গাছ কেটে ফেললে স্থানীয়রা বাধা দেন। পরে বনবিভাগ গাছ জব্দ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রভাবশালী হওয়ায় মামুন মিয়া ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। এমনকি প্রশাসনও বিষয়টিতে নীরব ভূমিকা নিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এই বাঁধ আমাদের ফসল বাঁচায়। এখন এখানে যারা বালু–পাথর রাখছে, তাদের কারণে বাঁধের গাছ মরছে। বাঁধটাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে শিগগিরই এটি ধ্বংস হয়ে যাবে।”
বাঁধের আশপাশে ঘুরে দেখা গেছে, বিশাল এলাকায় বালু ও পাথর ডাম্পিং করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা মামুন মিয়ার নেতৃত্বে দোহালিয়া ইউনিয়নের মজুরবাজার এলাকার জিয়াউল মেম্বার, বাজিতপুর গ্রামের আলমগীর, মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ইদনপুর গ্রামের আক্রাবুল, মিছির আলী ও চন্ডীপুর নতুনপাড়া গ্রামের রফিক মিয়াসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বাঁধ দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এখানে কোনো বালু–পাথরের ব্যবসা করি না। সরকারি রাস্তার কাজের জন্য কিছু বালু এনে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” গাছ কাটার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, “ইউএনও ও বন কর্মকর্তাকে জানিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে একটা মরা গাছ কেটেছি।”
তবে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে কেউ আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি। বনবিভাগকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “পান্ডারখাল বাঁধে ইট-বালু-পাথর ডাম্পিং করতে নিষেধ করা হয়েছে। দখলদারদের ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা না সরালে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দোয়ারাবাজার বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা আইয়ুব খান বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে গাছ জব্দ করেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: