যাদুকাটায় পাড় কাটার অভিযোগে তিন মামলায় ১১৫ জন আসামী
Led Bottom Ad

অভিযুক্তদের মধ্যে প্রতিবাদীরাও

যাদুকাটায় পাড় কাটার অভিযোগে তিন মামলায় ১১৫ জন আসামী

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৮/১০/২০২৫ ১৪:৪৬:৫৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

যাদুকাটা নদীর পাড় কাটা ও বালু–পাথর লুটপাটকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকা। নদীর পাড় কেটে বালু–পাথর লুটের ঘটনায় তিনটি মামলায় ১১৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ—এই মামলায় পাড় কাটার মূল হোতারা বাদ পড়েছে, বরং প্রতিবাদকারীরাই আসামী হয়েছেন।

জানা যায়, ১৬ অক্টোবর বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে প্রথম মামলাটি করে পুলিশ। এতে নাম উল্লেখ করে ৫১ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৩০ জনকে আসামী করা হয়। পরে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় আরও ৩৭ জন ও উপজেলা প্রশাসনের মামলায় ৩১ জনকে আসামী করা হয়।

লাউড়েরগড়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই মামলায় পাড় কাটার প্রকৃত হোতাদের অনেককে বাদ দিয়ে পুরনো বিরোধের জেরে নিরীহ মানুষকে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রতিবাদী ব্যক্তি ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের নামও রয়েছে।

ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাইদের নাম বাদ পড়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় এক তরুণ সাংবাদিক জানান, তারা পাড় কাটার এলাকায় ২২ নল জায়গা বিক্রি করেছেন। অপরদিকে, পাড় কাটার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজার ভাই আস্তারুল, নারজেল, পারভেজ ও মাসুদ রানাসহ আরও কয়েকজনকে মামলায় আসামী করা হয়েছে।

কাশমির রেজা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে যাদুকাটার পাড় কাটা বন্ধে আন্দোলন করছি। অথচ আমাদেরই লোকজনকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”

তবে যাদুকাটার ইজারাদার নাছির মিয়া বলেন, “সাংবাদিক ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আসামীর তালিকা করা হয়েছে। কাউকে টার্গেট করে মামলা করা হয়নি।”

তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, “তদন্তে দোষীদের শনাক্ত করে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্দোষ মানুষ হয়রানির শিকার হবে না।”

প্রসঙ্গত, গেল মঙ্গলবার রাত ১২টার পর হঠাৎ করেই দুই থেকে আড়াই হাজার বাল্কহেড নদীতে নোঙর করে পাড় কেটে বালু তোলা শুরু করে। চারদিনে প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাড় কাটা হয়। বিজিবি বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসনকে জানায়।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad