দিরাইয়ে সিএনজিচালিত অটো-রিক্সা চালক ইউনিয়নের নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা
সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজিচালিত অটো-রিক্সা চালক ইউনিয়নের (রেজিঃ নং- ০৩৪) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে যেকোনো সময় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন অনেকে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) ওই নির্বাচনের ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। শ্রমিকদের একাংশ দাবী করেছেন- গঠনতন্ত্র না মেনে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পুর্বের কমিটির সভাপতি কনর মিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন ও সহসভাপতি এনামুল হক মাছুম তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করতে সদস্যদের না জানিয়ে একটি পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করেছেন।
নির্বাচন স্থগিত করে সাধারণ সভা আহবান, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন, নতুন তফসিল ঘোষণা ও অবাধ-সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবীতে রবিবার দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন পুর্বের কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আউয়াল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওয়াকিব, কোষাধ্যক্ষ সবুজ মিয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য মনিরুজ্জামান মনি।
সদস্যদের পক্ষে করা ওই আবেদনে বলা হয়- বিগত কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ৫ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ সভা কিংবা কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থাপন না করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে, পদ আকঁড়ে অনিয়ম দুর্নীতি আড়াল করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তারা। সাধারণ সভা আহবান না করে চুপিচুপি একটি পাতানো নির্বাচনের আয়োজ করেন। ওই নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা হয়নি।
সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আউয়াল মিয়া বলেন, অনেক প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে এই সংগঠন এনেছিলাম।কিছু দুর্নীতিবাজ লোকের কারণে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওয়াকিব বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। প্রশাসন জালিয়াতির নির্বাচন বন্ধ না করলে, সড়ক অচল করে দিবে শ্রমিকরা। সাবেক কোষাধ্যক্ষ সবুজ মিয়া বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের নুন্যতম অনুসরণ করা হয়নি। শ্রম আইনের লঙ্ঘন করে একাধিক দ্বৈত সদস্য করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের আগে সাধারণ সভা কিংবা কার্যকরী কমিটিসহ সদস্যদের কিছু জানানো হয়নি।
সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মনিরুজ্জামান মনি বলেন, সাধারণ সভা আহবান করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন, ভোটার তালিকা স্বচ্ছ ও হালনাগাদ, মিডিয়ার উপস্থিতিতে তফসিল ঘোষণা করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। অভিযোগের বিষয়ে কনর মিয়া বলেন, যারা অভিযোগ করেছে- সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকায় তাদের সদস্যপদ আগেই বাতিল করা হয়েছে।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনজীব সরকার বলেন, শ্রমিকদের একপক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সহায়তা চেয়ে আবেদন দিয়েছে। আরেকপক্ষ নির্বাচন বন্ধ করার জন্য লিখিত দিয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের নিবন্ধন আমরা দেই না। আমি মনে করি তারা একত্রে বসে সমস্যার সমাধান করলে ভালো হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: