ছাতকে ১১ কোটি টাকার ট্রমা সেন্টারে দুই বছর ধরে ঝুলছে তালা
Led Bottom Ad

জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে অব্যবহৃত দৃষ্টিনন্দন ভবন

ছাতকে ১১ কোটি টাকার ট্রমা সেন্টারে দুই বছর ধরে ঝুলছে তালা

নিজস্ব প্রতিনিধি. ছাতক

২৪/১১/২০২৫ ১০:০০:০২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ছাতকের কৈতক হাসপাতাল এলাকায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টার উদ্বোধনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে নির্মিত এ আধুনিক স্থাপনাটি উদ্বোধনের পর থেকেই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। দূর থেকে দৃষ্টিনন্দন ভবন মনে হলেও কাছে গেলে মনে হয় পরিত্যক্ত কোনো স্থাপনা—গেটে তালা ঝুলছে, ভেতরজুড়ে লতাগুল্ম, মাকড়সার জাল এবং অবহেলার চিহ্ন।

ভবনে স্থাপিত ১১টি এসি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এখন নষ্ট হওয়ার পথে। চিকিৎসা সরঞ্জাম, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ব্যাপক অর্থ ব্যয়ে নির্মাণের পরও ট্রমা সেন্টারটি চালু করা যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

২০২৩ সালে সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ট্রমা সেন্টারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জেলার জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্য থাকলেও গত দুই বছরে এটি কোনো ধরনের সেবা দিতে পারেনি। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ আহত–নিহত হয়েছেন; গুরুতর রোগীদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিতে হয়েছে।

জয়কলস হাইওয়ে থানার ওসি সুমন কুমার চৌধুরী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু ও ৬৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে শান্তিগঞ্জ এলাকায় দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক বেশি।

সুনামগঞ্জ–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ৬৮ কিলোমিটারজুড়ে আগে কোনো ট্রমা সেন্টার না থাকায় কৈতকে নির্মিত এ কেন্দ্রকে ঘিরে শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতকবাসীর প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু উদ্বোধনের দীর্ঘ সময় পরও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে ট্রমা সেন্টারটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন,“জনবল না থাকায় ট্রমা সেন্টারটি চালু করা যায়নি। জনবল নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad