জগন্নাথপুরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ স্থানীয়দের
তাহিরপুর ও শান্তিগঞ্জে নির্মাণ হচ্ছে না টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণের সরকারি প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট একনেক সভায় দেশের আরও ৫০টি টিটিসির সঙ্গে এই দুই উপজেলার কেন্দ্র অনুমোদন পেলেও সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তাহিরপুরের কেন্দ্রটি জগন্নাথপুরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং শান্তিগঞ্জ কেন্দ্রের প্রশাসনিক অনুমোদনও আটকে গেছে। ফলে দুটি উপজেলায়ই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় টিটিসি নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেয় সরকার। বিদেশগামী যুবক-যুবতীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে তাহিরপুর ও শান্তিগঞ্জও ছিল চূড়ান্ত। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক দপ্তর সূত্র জানায়, তাহিরপুরে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণার্থী পাওয়া নাও যেতে পারে—এমন যুক্তি দেখিয়ে কেন্দ্রটি জগন্নাথপুরে স্থানান্তরের সুপারিশ করা হয়। চলতি মাসে গণপূর্ত বিভাগকে জগন্নাথপুরে ভবন নির্মাণে নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে শান্তিগঞ্জে জমি অধিগ্রহণ ও প্রস্তুতি শেষ হলেও নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
প্রকল্প বাতিল ও স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা। তাহিরপুরের বাদাঘাট বাজারের সমাজসেবক আবুল হোসেন বলেন, “তুচ্ছ অজুহাতে আমাদের এলাকা থেকে প্রকল্পটি সরিয়ে নেওয়া অন্যায়। সরকার আরও কেন্দ্র নির্মাণ করুক, কিন্তু আমাদেরটা কেন কেটে নেওয়া হবে?”
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন,“তাহিরপুর অবহেলিত জনপদ। টিটিসি নির্মাণ হলে এখানকার বেকার যুবসমাজের উপকার হতো। প্রকল্পটি বাতিল করায় আমরা ক্ষুব্ধ।”
শান্তিগঞ্জের বাসিন্দা ও জেলা বিএনপির সদস্য আনসার উদ্দিন বলেন,“কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি করে। শান্তিগঞ্জে কেন্দ্রটি কেন বন্ধ করা হলো, আমরা তা খতিয়ে দেখব।”
প্রকল্প পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন,“কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিয়েছে তাহিরপুরে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ হবে না। এটি বাস্তবায়ন করা হবে জগন্নাথপুর উপজেলায়। আর শান্তিগঞ্জে কেন্দ্র হবে কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: