১৭ বছর পর বাবা-মায়ের কোলে ফিরলেন কমলগঞ্জের প্রবীর সিংহ
১৭ বছরের দীর্ঘ কারাভোগ শেষে শেষমেশ নিজের বাড়িতে পা রাখলেন বিডিআর সদস্য প্রবীর সিংহ। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া প্রবীর ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার উত্তর বালিগাঁওয়ের বাড়িতে পৌঁছান। তার আগমনেই যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর বেদনার এক অধ্যায় ঘোচে যায়।
বাড়ির উঠানে প্রবীর পা রাখতেই বাবা লক্ষীন্দ্র সিংহ (ভাগ্য)–এর কোলে লাফ দিয়ে গিয়ে আলিঙ্গনে ভেঙে পড়েন। চোখের জলে মিশে যায় ১৭ বছরের যন্ত্রণার সব স্মৃতি। স্বজন ও প্রতিবেশীরা আবেগ সামলাতে না পেরে কাঁদতে শুরু করেন। মুহূর্তে পুরো বাড়ি ভরে ওঠে কান্না, স্মৃতি আর ফিরে পাওয়ার আনন্দে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চাকরির পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার সময় প্রবীর তখন খাগড়াছড়ির রামগড় এলাকায় কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালের পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহের সময়ে ঢাকায় স্কাউটিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য তাকে আনা হলে ঘটে সবকিছু। এরপর গ্রেপ্তার এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবন—এ যেন শেষ না হওয়ার মতো এক অধ্যায়।
মুক্তির খবরে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের মতো আনন্দ। শত শত মানুষ প্রবীরকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন। কেউ তার হাত ধরে কাঁদেন, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকেন—হারানো সময়ের ছায়া চোখে ভাসছে। ভিড়ের মধ্যে প্রবীরের চোখে এখনও লুকানো থাকে অপূরণীয় বেদনার ছায়া।
প্রবীর সিংহের বাবা লক্ষীন্দ্র সিংহ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “১৭ বছর পর আমার ছেলে ঘরে ফিরেছে। কতদিনের অপেক্ষা—তার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ভগবানের কৃপায় অন্তত জীবিত অবস্থায় তাকে ফিরে পেয়েছি। আজ আমাদের চোখে মুখে শুধু একটাই অনুভূতি—শিশু ফিরেছে, নতুন করে স্বপ্ন বাঁচার প্রতীক্ষা।”
প্রবীর নিজেও আবেগ জানিয়ে বলেন, “যাঁরা এখনো নিরপরাধ অবস্থায় কারাগারে আছেন, যাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে, তাঁদের যেন দ্রুত মুক্তি দেওয়া হয়। যেন কারও জীবন আমার মতো তিলে তিলে নষ্ট না হয়।”
এই দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার দিনগুলো শেষ, তবে ফিরে পাওয়া সেই মুহূর্তে আবেগ, স্মৃতি আর স্বপ্নের মিলনে পুরো গ্রাম মাতম ও আনন্দের সমন্বয়ে ভরে উঠেছিল।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: