দেড় বছরেও চালু হয়নি সুনামগঞ্জের ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি
Led Bottom Ad

৩৬ কোটি টাকার আধুনিক ভবন পড়ে আছে

দেড় বছরেও চালু হয়নি সুনামগঞ্জের ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি

প্রথম ডেস্ক

২০/১২/২০২৫ ১৪:৩৭:৪৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ভাটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিস্তারের আশায় প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) ভবন দেড় বছর ধরে পড়ে আছে অব্যবহৃত। ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে অব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা শহরের কেন্দ্রস্থলে সাড়ে তিন একর জমির ওপর প্রায় ৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন প্রতিষ্ঠানটির কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন। আধুনিক নকশায় নির্মিত আইএইচটি ক্যাম্পাসে রয়েছে একটি একাডেমিক ভবন, একটি ছাত্র হোস্টেল, একটি ছাত্রী হোস্টেল এবং শিক্ষক ও স্টাফদের জন্য পৃথক কোয়ার্টার।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে শুরুতেই অধ্যক্ষসহ অন্তত ৫০ জন জনবলের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখনো স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় জনবল বরাদ্দ না দেওয়ায় বিশাল এই অবকাঠামো কোনো কাজে আসছে না। ফলে নতুন ভবনগুলো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছেও কার্যত ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইএইচটির প্রতিটি ক্যাম্পাসে সাধারণত নার্সিং, মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি, রেডিওলজি ও ফিজিওথেরাপিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু সুনামগঞ্জ আইএইচটি চালু না হওয়ায় হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে হাওর পাড়ের শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকাতেই মেডিকেল ও স্বাস্থ্যখাতে ডিপ্লোমা পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতেন। একই সঙ্গে এখান থেকে দক্ষ হেলথ টেকনোলজিস্ট তৈরি হয়ে সুনামগঞ্জসহ পুরো হাওর অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা সেজলু মিয়া বলেন, “৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনগুলো কোনো কাজে আসছে না। এটি চালু হলে এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তন আসতো।”

আরেক বাসিন্দা আফাজ মিয়া বলেন, “কাজ শুরু হওয়ার সময় আমরা অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। এটি চালু হলে শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতো।”

হাওর পাড়ের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে আমরা এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এলাকার স্বাস্থ্যখাতে অবদান রাখতে পারতাম। কিন্তু সেটি আজও বাস্তবায়ন হয়নি।”

সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফিরোজ বলেন, “আইএইচটি ভবনটি হস্তান্তরের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় অনেক কিছু নষ্ট হচ্ছে।”

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে শুধু সুনামগঞ্জ নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিডিএল অ্যান্ড এমটি (জেবি) ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। নির্মাণ শেষে হাওরাঞ্চলের শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কথা থাকলেও দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি চালু না হওয়ায় সেই স্বপ্ন আজও অধরাই রয়ে গেছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad