পতিত জমিতে সবুজের বিপ্লব, লাভের মুখ দেখছেন কৃষক
জগন্নাথপুরে অসময়ে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় অসময়ে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। আমন ও বোরো ধানের বাইরে যেখানে অন্যান্য ফসলের আবাদ প্রায় নেই বললেই চলে, সেখানে অসময়ে তরমুজ চাষ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কৃষকদের এই সাফল্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরে ধীরে ধীরে মানুষ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এর নেপথ্যে রয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ ও তার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা। তারা নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষকদের ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদে উদ্বুদ্ধ করছেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শের পাশাপাশি সরকারিভাবে বিনামূল্যে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করায় কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে এক সময়ের পতিত জমি এখন আবাদে ফিরে আসছে।
এরই সফল উদাহরণ জগন্নাথপুর পৌর শহরের বলবল গ্রামের কৃষক খলিল মিয়া। তিনি মইয়ার হাওরের পলিভরাট জমিতে এবার তরমুজ ও মিষ্টি লাউ চাষ করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তার আবাদকৃত জমি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ মইয়ার হাওরে ছুটে আসছেন। পলিমাটিতে সবুজের সমারোহে গাছে গাছে ঝুলছে তরমুজ ও লাউ।
কৃষক খলিল মিয়া জানান, গত বছর শ্রমিক সংকটের কারণে তরমুজ চাষ করতে পারেননি। তবে এবার আগেভাগেই শ্রমিক সংগ্রহ করে আশ্বিন মাসের শুরুতে প্রায় ৬ কেদার জমিতে তরমুজ আবাদ করেন। পাশাপাশি সাড়ে ৭শ’ মিষ্টি লাউগাছ রোপণ করেন। প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে তরমুজ পাকতে শুরু করে।
তিনি বলেন, “গত সপ্তাহে ৯৫ হাজার টাকার কালো তরমুজ বিক্রি করেছি। ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার আরও ৬০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। সামনে আরও বিক্রি হবে।” তবে এখন পর্যন্ত জমি আবাদে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। তরমুজ ও লাউ উভয় ফসল থেকেই ভালো লাভ হবে বলে তিনি আশাবাদী।
এছাড়া তার বাগানে সাদা তরমুজের চাষও করা হয়েছে, যা আগামী রমজান মাসে বাজারে আসবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, “অসময়ে তরমুজ আবাদ করায় কৃষক ভালো দাম পাচ্ছেন। এতে তিনি লাভবান হচ্ছেন। এটি দেখে অন্যান্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন বলে আমরা আশা করছি। এতে পতিত জমি আবাদে আসবে এবং নতুন নতুন ফসল চাষের মাধ্যমে জগন্নাথপুরের কৃষকরা কৃষি বিপ্লবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “খলিল মিয়ার মতো আরও কৃষক এগিয়ে এলে জগন্নাথপুরে উৎপাদিত কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ ও রপ্তানি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। তখনই কৃষি বিভাগের সব প্রচেষ্টা সার্থক হবে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: