বিভিন্ন দাবিতে আল্টিমেটাম
সুবিপ্রবিতে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বাস চায় শিক্ষার্থীরা
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৮ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে শান্তিগঞ্জস্থ অস্থায়ী ছাত্রাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন বাস চালু, মানসম্মত লাইব্রেরি ও আবাসিক হলের সুবিধা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনের জন্য ইতোমধ্যে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ইউজিসির অনুমতি না পাওয়ার অজুহাতে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না, এ কারণে এখনো কোনো বাসের ব্যবস্থা হয়নি। প্রতিদিন সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সিএনজি, বাসে চড়েই ক্লাসে আসতে হয় শিক্ষার্থীদের। এতে একদিকে সময় বেশি লাগছে ও ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে হাফপাস নিয়ে প্রায়ই যানবাহন চালকদের সঙ্গে বিতর্কে জড়াতে হয় তাদের। অনেক সময় অপমানজনক আচরণেরও শিকার হন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, আমরা শুধু বাস চাইছি না। আমাদের ন্যায্য অধিকার চাইছি। ক্লাসে পৌঁছাতে প্রতিদিন আমাদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। অথচ পরিবহনের জন্য টাকা থাকলেও কর্তৃপক্ষ শুধু অনুমতির কথা বলে দায় এড়াচ্ছে। বাসের পাশাপাশি আমাদের মানসম্মত হল ও লাইব্রেরির ব্যবস্থাও করতে হবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বাস ব্যবস্থা করা না হলে তারা ক্লাস বর্জনসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন, যার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষার্থী জাকারিয়া নাইম, জি এম তাইমুম, সুরভী চৌধুরী, সোহানুর রহমান ও তাকবিল হাসান।
এসময়, মিনহাজুল মিনাল, সাব্বির হোসেন, তনুশ্রী দেব, সুদিপ্তা চৌধুরী, আশরাফ হোসেন, লাবন্য মন্ডল, আদিবা জামান নাফি, আব্দুর রহমান নিশাদ, রুবাইয়া বর্ষা, তাসমিম অধরা, পূজা রয়, তাসনিম জাহান, সাফিন আহমেদ ও নাহিয়ানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নিজাম উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হচ্ছে পরিবহনের ব্যবস্থা করা। এটা অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি। এই দাবির সাথে আমরা একমত। আমরাও চাই শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র যাতায়াত ব্যবস্থা হোক। এসব বিষয় চিন্তা করে আমি ইতোমধ্যে শুধুমাত্র যাতায়াতের ব্যবস্থার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের কাছে ৩ বার চিঠি দিয়েছি। সরকার কর্তৃক ‘এম্বারগো’ (সরকারিভাবে ক্রয় আদেশ বন্ধ) থাকার কারণে আমরা বাসের ব্যবস্থা করতে পারছি না। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসায় আমরা একাডেমিক কার্যক্রম চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছি। আগামী সোমবারেই লাইব্রেরির ব্যাপারে একটি ঘোষণা দিয়ে দিতে পারবো।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: