মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমে কমছে গতি
সুনামগঞ্জে মাটি পরীক্ষার সুফল থেকে বঞ্চিত কৃষকরা
হাওরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জে চালু হওয়া মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। মাটি পরীক্ষা হলেও অনেক কৃষক কাক্সিক্ষত পরামর্শ পাচ্ছেন না, আবার কেউ কেউ ব্যয় বেশি হওয়ায় সুপারিশ মানছেন না।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মৃত্তিকা, পানি, উদ্ভিদ ও সার বিশ্লেষণ করে স্থানভিত্তিক ফসল চাষে সার প্রয়োগের সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান, উর্বরতা পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণাভিত্তিক নির্দেশনাও দেওয়ার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানটির।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, সুনামগঞ্জে প্রায় পৌনে চার লাখ কৃষক পরিবার রয়েছে, যাদের অধিকাংশই হাওরের বোরো চাষের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুফল তারা পুরোপুরি পাচ্ছেন না।
২০২১ সালে কার্যক্রম শুরুর পর মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউট জেলায় ৪ হাজার ৪৬০ জন কৃষককে সার প্রয়োগের সুপারিশ দিয়েছে। তবে দফতর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় বর্তমানে এই কার্যক্রমের গতি কমে এসেছে। চলতি বছরে মাত্র ৪৬০ জন কৃষককে সার সুপারিশ কার্ড দেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই মাটি পরীক্ষা করালেও পরবর্তীতে কোনো কার্যকর পরামর্শ পাননি।
দিরাই উপজেলার শরিফপুর গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, “এক বছর আগে মাটি দিয়েছিলাম, কিন্তু এরপর কেউ কিছু জানায়নি। আগের মতোই চাষ করছি।”
ধর্মপাশার নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদও একই অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, কিছু কৃষক সুপারিশ মানতে অনাগ্রহী। সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, “মাটি পরীক্ষার সুপারিশ অনুযায়ী সার দিলে খরচ দ্বিগুণ হয়ে যায়। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় আমি তা মানছি না।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “মাটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দেওয়া সুপারিশ মানলে ফলন বাড়বে এবং রোগবালাই কমবে। তবে যারা সুপারিশ কার্ড পাননি বা পরামর্শ পাননি—বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ফলোআপ জোরদার করা না গেলে মাটি পরীক্ষা কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনবে না।
শামস শামীম
মন্তব্য করুন: