সুনামগঞ্জ লঞ্চঘাটে ১০ কোটি টাকার সরকারি জমি উদ্ধার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
Led Bottom Ad

জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

সুনামগঞ্জ লঞ্চঘাটে ১০ কোটি টাকার সরকারি জমি উদ্ধার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০২/০১/২০২৬ ১২:১৫:৩১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র লঞ্চঘাট এলাকায় প্রায় ৩১ শতক সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল। স্থানীয়দের মতে, শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাট এলাকার এই সরকারি ভূমির বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদাররা এ জমি দখল করে রাখলেও অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে ভূমিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের আগের রাতে সরকারি জমিতে থাকা অন্তত ১৪টি গাছ কেটে বিক্রি করে দেয় অবৈধ দখলদার শাহীন ও শামীম। এর আগেও আরও অন্তত ৪টি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘদিন পর হলেও সরকার ৩১ শতক সরকারি ভূমি উদ্ধার করতে পেরেছে, যা নিঃসন্দেহে আনন্দের। তবে সরকারি জমির গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

অবৈধ দখলদার শাহীন বলেন, “ভুলবশত সরকারি জমির গাছ কেটে ফেলেছি। বিষয়টি যে এমন হবে আমি জানতাম না। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।”

সিনিয়র সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন বলেন, “লঞ্চঘাট এলাকায় ঘাটলা নির্মাণের সময় অবৈধ দখলদাররা জমিটি নিজেদের দাবি করে বাধা দেয়। ফলে ঘাটলা এক ফুট সংকীর্ণ করে নির্মাণ করতে হয়, যা এলাকাবাসীর ক্ষোভের কারণ হয়। অবৈধ দখল নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আজ সেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলো।”

উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল বলেন, “দীর্ঘদিন পর হলেও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি মূল্যবান সরকারি ভূমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি জমির গাছ কর্তনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল বলেন, “আজ লঞ্চঘাট এলাকায় সরকারি ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি জমিতে গাছ কর্তনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসিত কুমার বণিক লঞ্চঘাট এলাকায় খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি পরিদর্শন করেন। এসময় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল, কাননগো মো. রুহুল আমিন, পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কয়েছ আহমদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ এপ্রিল লঞ্চঘাট এলাকার খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবিতে পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। পরবর্তীতে সরকারি ভূমির সত্যতা যাচাই করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের তৎপরতায় অবশেষে এই সরকারি ভূমি উদ্ধার সম্ভব হয়।

সরকারি ভূমি উদ্ধার ও জনস্বার্থে ব্যবহারের উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। পূর্ব ইব্রাহীমপুরবাসী এ জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad