দিরাইয়ে দেবোত্তর সম্পত্তিতে প্যান্ডেল, থমকে আছে মন্দিরের কাজ
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর সদরের শুকুরনগর গ্রামে দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর স্থাপিত অস্থায়ী প্যান্ডেল অপসারণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় শিব সংঘের নেতৃবৃন্দ। তাঁদের অভিযোগ, প্যান্ডেলটি অপসারণ না করায় শিব মন্দিরের চলমান উন্নয়নকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) শুকুরনগর শিব সংঘের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন শীলের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন ইউএনও কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুকুরনগর মৌজার ৮০ নম্বর জেএল ও ১৫৮৪ নম্বর দাগভুক্ত ‘মহাদেব দেবোত্তর’ সম্পত্তিতে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রায় ১৫৩ বছর ধরে নিয়মিত পূজা-পার্বণ করে আসছেন। ২০১৪ সালে গ্রামবাসীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এই স্থানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘শুকুরনগর শিব সংঘ’-কে।
সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভক্ত ও দাতাদের সহযোগিতায় প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে শিব মন্দিরের বর্ধিতকরণের কাজ চলমান থাকলেও অস্থায়ী প্যান্ডেলের কারণে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে গ্রামের অন্য একটি সংঘ দুর্গাপূজা আয়োজনের জন্য ওই স্থানে অস্থায়ী প্যান্ডেল নির্মাণের অনুমতি চাইলে শিব সংঘ ও গ্রামবাসী সদয় হয়ে অনুমতি দেন। সে বছর পূজা শেষে প্যান্ডেলটি সরিয়ে নেওয়া হলেও ২০২৫ সালে দুর্গাপূজার জন্য পুনরায় নির্মিত অস্থায়ী প্যান্ডেলটি পূজা শেষ হওয়ার অনেক দিন পরও অপসারণ করা হয়নি।
শিব সংঘের সভাপতি সুশীল কুমার তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রন্টু দাস, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সুব্রত চৌধুরীসহ স্থানীয়রা জানান, একাধিকবার অনুরোধ ও তাগাদা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষ প্যান্ডেলটি সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে শিব মন্দিরের বর্ধিতকরণ কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে আছে, যা স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।
তবে দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রনদা দাস বলেন, গ্রামে দুটি পক্ষ রয়েছে। প্রতিবছর দুর্গাপূজা আয়োজনের অংশ হিসেবে এ বছর শিব মন্দির এলাকায় একটি স্থায়ী প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে অচলাবস্থার অবসান ঘটবে এবং ধর্মীয় স্থাপনাটির উন্নয়নকাজ আবারও নির্বিঘ্নে এগিয়ে যাবে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: