সুনামগঞ্জ-৩ আসনে প্রবাসী দুই প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আপিল জটিলতা
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী অধ্যুষিত এই এলাকা এবারও প্রবাসী প্রার্থীদের কারণে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। অপরদিকে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
উভয়ের মনোনয়নই রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করা হয়েছে। কয়ছর আহমেদকে দ্বৈত নাগরিক উল্লেখ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ৮ জানুয়ারি আপিল করেছেন। একই অভিযোগে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খানও আপিল দায়ের করেছেন। অন্যদিকে কয়ছর আহমেদও আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে আপিল করেছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদও আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
মোট চারটি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আপিল মামলা নিয়ে এই আসনে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) আনোয়ার হোসেনের দায়ের করা মামলার শুনানি হবে। পরদিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদের মামলা, এবং ১৭ জানুয়ারি কয়ছর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তিনি কখনো ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন না, আর কয়ছর আহমেদকে অভিযোগে ন্যায্য বিচার পাওয়া যাবে। অপরদিকে কয়ছর আহমেদ শুনানির আগে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জগন্নাথপুরের প্রবীণ বিএনপি নেতা মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল বলেন, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বহু প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাস থেকে জয়ী হয়েছেন। একই এলাকার বর্তমান চেয়ারম্যানদেরও অধিকাংশই লন্ডন প্রবাসী।
জামায়াত প্রার্থী ইয়াসীন খান বলেন, জনগণের সেবা করার জন্যই আপিল দায়ের করা হয়েছে; ভুল তথ্য বা গোপন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
আইন অনুসারে, সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। এর প্রেক্ষিতে গত সোমবার চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি আপিল মোকদ্দমার শেষ দিন, ২০ জানুয়ারি প্রার্থীদের প্রত্যাহার, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ
এ রহমান
মন্তব্য করুন: