জগন্নাথপুরে হাওর রক্ষার বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় শঙ্কায় কৃষক
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় নলুয়ার হাওরসহ ১২টি হাওর ও নন-হাওর এলাকার বোরো ফসলকে অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষায় নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সরকারিভাবে ৩৭টি পিআইসি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও অধিকাংশ প্রকল্পে এখনো কাজ শুরু হয়নি।
জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসেই এসব প্রকল্পের আওতায় বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পার হলেও বাস্তবে তার অগ্রগতি খুবই ধীর। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে নলুয়ার হাওরের পশ্চিমপ্রান্ত দাসনোয়াগাঁও ও ভুরাখালি গ্রাম এলাকায় অবস্থিত ২নং, ৩নং ও ৪নং প্রকল্প পরিদর্শনে দেখা যায়—২ ও ৩নং প্রকল্পে কেবলমাত্র মাটিকাটার কাজ শুরু হয়েছে, আর ৪নং প্রকল্পে এখনো কোনো কাজই শুরু হয়নি। অথচ এই প্রকল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্লুইচগেট (ক্লোজার) রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, শুধু একটি প্রকল্প নয়, পুরো হাওরজুড়ে অধিকাংশ বাঁধের কাজই এখনো শুরু হয়নি। এতে বোরো আবাদ নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে অকাল বন্যায় তাদের ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
৪নং প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য অনিল চন্দ্র দাস বলেন, “মাটিকাটার গাড়ি আসতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।”
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ ফরিদ জানান, হাওরের অনেক স্থানে এখনো পানি রয়েছে এবং পানি নামলেও মাটি নরম থাকায় কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত ২৭টি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাকি প্রকল্পগুলোর কাজও দ্রুত শুরু করা হবে।”
হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, “হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধের কাজ যত দ্রুত সম্ভব শুরু ও শেষ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। সময়মতো কাজ শেষ না হলে কৃষকদের ক্ষতির দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।”
এদিকে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাওর এলাকার কৃষকদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সব প্রকল্পের কাজ একযোগে শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: