মাত্র দুই চিকিৎসকে চলছে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
তাহিরপুরে জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত তিন লক্ষাধিক মানুষ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ জনবল সংকট বিরাজ করায় উপজেলার সাত ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাত্র দুইজন চিকিৎসক দিয়ে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে চরম চাপের মুখে পড়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে তাহিরপুর–বাদাঘাট সড়কের পাশে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটি নির্মিত হয়। শুরু থেকেই এখানে জনবল সংকট লেগেই ছিল। ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় আজও এর কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে কিছু জনবল ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হলেও কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটিতে অনুমোদিত ১২৪টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ৬৮টির বেশি পদ শূন্য রয়েছে। ১৩ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২ জন, বাকি ১১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। আবাসিক চিকিৎসক, মেডিসিন, গাইনি, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এছাড়া ২১ জন নার্সের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১০ জন, যাদের মধ্যে ৩ জন শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। ৪ জন মিডওয়াইফের মধ্যে আছেন মাত্র ১ জন। ল্যাব টেকনিশিয়ান, রেডিওলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ শূন্য। প্রশাসনিকসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বহু পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও ভেঙে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ শতাধিক শিশু, নারী, পুরুষ ও বৃদ্ধ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কর্তব্যরতরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিছু ওষুধের ঘাটতি থাকলেও তা কয়েক দিনের মধ্যে পূরণ হবে বলে জানানো হয়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, চিকিৎসক সংকট এখানে নিত্যদিনের সমস্যা। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সাময়িকভাবে কিছু চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বদলি হয়ে যান। ফলে আবারও আগের সংকট ফিরে আসে। নামমাত্র সেবা পেয়ে অনেক রোগীকেই জেলা শহর সুনামগঞ্জ কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ আহমেদ বলেন, “চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির চাহিদা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। বর্তমানে মাত্র দুইজন চিকিৎসক দিয়ে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় শত রোগীর সেবা দিতে গিয়ে আমাদের চরম চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “ওষুধের বড় কোনো সংকট নেই। যে কয়েকটি ওষুধের ঘাটতি রয়েছে, তা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পূরণ হবে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: