সুনামগঞ্জে মাহারাম নদীতে বালু লুট বন্ধ ও সীমানা নির্ধারণের দাবিতে ডিসির নিকট অভিযোগ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নে অবস্থিত ইজারাবিহীন মাহারাম নদীতে দিনে ও রাতের আঁধারে অবাধে বালু-পাথর লুটের অভিযোগ উঠেছে। লড়ি, ছোট পিকআপ ও অটোরিকশা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই লুটপাট চললেও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় বালু লুট প্রতিরোধ এবং মাহারাম নদী ও রাজাই মৌজার সীমানা নির্ধারণের দাবিতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল কাসেম এ আবেদন করেন। তিনি বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মাহারাম নদী বাঁধ রক্ষা কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, মাহারাম নদী একসময় তাহিরপুর এলাকার ‘মরণ ফাঁদ’ হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রায় দেড় যুগ আগে রাতের আঁধারে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে মাহারাম গ্রামের শত শত ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। পাশাপাশি হাওর অধ্যুষিত তাহিরপুরের কোপাউড়া, মহিষমারা, গোলাঘাট, বলদা, মাটিয়াইন, চুনখলা, সংসা ও টাঙ্গুয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের একমাত্র জীবিকা বোরো ফসল উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে অকালে তলিয়ে যায়। এতে বহু আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে হাওরের ফসল রক্ষায় তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাহারাম নদীর মুখে সরকারি বরাদ্দ ও জনসাধারণের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তিনি তিনবার সরকারি বরাদ্দে ওই বাঁধ নির্মাণ করেন এবং বাঁধের সুরক্ষায় নিয়মিত কলমীলতা বপন করা হয়। প্রাকৃতিক নিয়মে বাঁধের মুখে চর পড়ায় বাঁধটি আরও মজবুত ও টেকসই হয়। ফলে ২০০৮ সালের পর থেকে সেখানে নতুন করে বাঁধ দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
এর ফলে বড়দল উত্তর, বড়দল দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর ও শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হাওরসহ তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের একটি অংশ পাহাড়ি ঢলের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়ে আসছে বলে তিনি জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল নামে বালু উত্তোলনের ইজারা দেওয়া হলে একটি স্বার্থান্বেষী অসাধু বালুখেকো চক্র ইজারাকৃত এলাকার বাইরে গিয়ে মাহারাম নদীর মুখে চরপড়া বালুর স্তুপ এবং নদীর উৎপত্তিস্থল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করে। প্রকাশ্যে ও রাতের আঁধারে ট্রলি গাড়ি, নৌকা এবং অবৈধ সেফ মেশিন ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত বালু লুট করা হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে বাধা দেওয়া ও প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও বালুখেকোদের প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে গত ১২ জানুয়ারি মাহারাম নদীর উৎপত্তিস্থলে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বস্তরের জনগণের মতামতের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়।
আবেদনে বলা হয়, দ্রুত মাহারাম নদীর উৎসমুখ ও রাজাই মৌজার সীমানা নির্ধারণ না করা হলে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ভাটি অঞ্চলের একমাত্র বোরো ফসল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং হাওরবাসী চরম সমস্যার সম্মুখীন হবে।
এ বিষয়ে আবেদনের বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: