শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ কাগজে–কলমে, ক্লোজারগুলো অরক্ষিত
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ মূলত কাগজে–কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লোজার এখনো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে, যা আসন্ন বোরো মৌসুমে ফসলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
উপজেলার কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির উদ্যোগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত, সংস্কার ও নতুন স্কিম বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার কথা ছিল গত ১৫ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কাজ শুরুর এক মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দিনব্যাপী কাউয়াজুরী হাওর, খাই হাওর, সাংহাই ও ছাইল্লানি হাওর ঘুরে দেখা যায়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার এখনো খোলা ও অরক্ষিত। কাউয়াজুরী হাওরের গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার সিফতখালীতে এখনো কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাউয়াজুরী হাওরের পিআইসি নম্বর ৩৮, ৪০, ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬২, খাই হাওরের ৫২ এবং ছাইল্লানি হাওরের ৬৫ ও ৬৬ নম্বর পিআইসিতে এখনো কাজ শুরুই হয়নি। এসব পিআইসিতে কবে কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছেও স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কাউয়াজুরী হাওরের ৩৯ ও ৬১, খাই হাওরের ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ এবং ছাইল্লানি হাওরের ৬৪ নম্বর পিআইসিকে চলমান দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে কোনো ক্লোজারের কাজ চোখে পড়েনি। অনেক জায়গায় এক্সকাভেটর দিয়ে বাঁধের ওপরের অংশ প্রায় এক ফুট কেটে দুই পাশে ফেলে কেবল ড্রেসিংয়ের কাজ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেন, অক্ষত বাঁধ ৭–৮ ইঞ্চি কেটে নিচু করে তার ওপর আবার মাটি ফেলে ড্রেসিং করা হচ্ছে। এতে বাঁধ আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, আগের বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ বরাদ্দ থাকলেও কাজের মান ও অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মোহন বলেন, উপজেলায় মোট ৬৭টি প্রকল্প রয়েছে এবং সবগুলোতেই কাজ শুরু হয়েছে। কিছু পিআইসিতে সাময়িকভাবে আংশিক কাজ বাকি আছে। তাঁর দাবি, ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ২০ শতাংশ।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, উপজেলার সব পিআইসিতে কাজ চলছে। তিনি নিজে একাধিক প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। কিছু ক্লোজার দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কারণে কাজে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ফরহাদ আহমেদ ফয়সাল
মন্তব্য করুন: