সুনামগঞ্জে দখল-দূষণে বিপর্যস্ত সুরমা নদী
Led Bottom Ad

সুনামগঞ্জে দখল-দূষণে বিপর্যস্ত সুরমা নদী

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৭/০১/২০২৬ ১২:১১:১২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের প্রাণভোমরা সুরমা নদী আজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। এক সময় স্বচ্ছ পানির খরস্রোতা এই নদী ছিল মানুষের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ বর্তমানে অবৈধ দখল, ভরাট, ময়লা-আবর্জনা ও মানববর্জ্যের চাপে নদীটি কার্যত মুমূর্ষু অবস্থায় পৌঁছেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকার চান্দিঘাটসহ নদীর বিভিন্ন অংশে নির্বিচারে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও মাটি ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক প্রশস্ততা সংকুচিত করা হয়েছে। এতে নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে এটি একপ্রকার দূষিত জলাধারে পরিণত হয়েছে, যা শহরবাসী ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

শুধু চান্দিঘাট নয়, সুরমা নদীর প্রায় প্রতিটি ঘাটেই একই চিত্র দেখা যায়। নদী তীরবর্তী বহু মানুষ অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে নদীর জায়গা দখল করেছেন। শহরের চান্দিঘাট এলাকার মুদি দোকানদার মোহাম্মদ মনির মিয়া বলেন, “শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে আবর্জনা ফেলে। কেউ কেউ নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা করছে। দুর্গন্ধ বাড়ছে, রোগব্যাধির ঝুঁকিও বাড়ছে।”

স্থানীয়রা আরও জানান, সন্ধ্যার পর নদীর পাড়ে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়, ফলে এলাকাটি অনিরাপদ হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালীকৃষ্ণ পাল বলেন, “অতি শিগগিরই চান্দিঘাট এলাকা পরিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি সেখানে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হাউস’-এর নির্বাহী পরিচালক সালেহিন চৌধুরী শুভ বলেন, “সুরমা নদীর পাড় কার্যত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অবৈধ দখল, ভরাট ও দূষণের কারণেই নদী মারা যাচ্ছে। এটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, সামাজিক দায়িত্বহীনতারও ফল। দেখে মনে হয়, এই নদীর যেন কোনো অভিভাবক নেই।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক দুলাল মিয়া বলেন, “সুরমাসহ সুনামগঞ্জের সব নদ-নদী আজ ভরাটের কবলে। এটি হাওরবাসীর জন্য অশনি সংকেত। নদী ভরাটের ফলে প্রতিবছর বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এই স্থায়ী কুফল থেকে রক্ষা পেতে এখনই একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সুরমা নদীর উৎপত্তিস্থল থেকে শেষ মোহনা পর্যন্ত পরিকল্পিত ও স্থায়ী ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই।”

সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে নদী দখলমুক্ত করা, দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে সুনামগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী নদী ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad