চুনারুঘাটে অস্ত্রের মুখে শ্রমিকদের জিম্মি করে প্রকল্পের গাছ ছিনতাই
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অস্ত্রের মুখে শ্রমিকদের জিম্মি করে একটি বনায়ন প্রকল্পের কাটা গাছ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার চুনারুঘাট যুব সমবায় সমিতি লিমিটেড পরিচালিত ‘মুক্তবাংলা বনায়ন প্রকল্পে’।
মামলার সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ৩২টি ম্যানজিয়াম গাছ বিক্রির ঘোষণা দিলে মুশফিকুর রহমান খসরু ও ফুল মিয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় গাছগুলো ক্রয় করেন। গত ১৪ জানুয়ারি সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে ২৫টি গাছ কেটে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
এ সময় লুৎফুর রহমান (পিতা: মৌলভী এজহার উদ্দিন, সাং বাদশারগাঁও) ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে কর্মরত শ্রমিকদের জিম্মি করেন। পরে দুটি ট্রাক্টরে কাটা গাছ লোড করা হয়। একটি ট্রাক্টর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। অন্য ট্রাক্টরটি লোড অবস্থায় থানা পুলিশ ও বন বিভাগের সদস্যরা আটক করেন। এ সময় ৪৩ টুকরা কাঠ জব্দ করে চুনারুঘাট বন কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (খগ–২) আদালত, হবিগঞ্জে একটি সিআর মামলা (নং–৪৮/২৬) দায়ের করেন। আদালত বন বিভাগের জব্দ করা মালামাল উদ্ধারসহ ছিনতাই হওয়া গাছের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বিক্রয়যোগ্য স্বল্পমেয়াদি ম্যানজিয়াম ও আকাশমনি গাছের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৪৫টি। এর মধ্যে ৮০০টি গাছ কাটার পর প্রকল্প পরিচালক অসুস্থ হয়ে পড়েন। গাছ বিক্রির অর্থের ১৫ শতাংশ (৪৫ হাজার টাকা) সরকারি তহবিলে জমা দিয়ে চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে অবস্থান করছিলেন।
এই সুযোগে লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–১৬ জন ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ৪০০টি ম্যানজিয়াম, ১৫টি মেহগনি ও ৮৫টি আকাশমনি গাছ চুরি করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব গাছের বর্তমান বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকার বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আগে আরেকটি সিআর মামলা (নং–৬৪৮/২৪) দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) তদন্ত করছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: