দ্রুত সংস্কারের দাবি
সুনামগঞ্জের পলাশ-লাউড়েরগড় সড়ক এখন মরণফাঁদ: চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ বাজার থেকে সীমান্ত অভিমুখে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরা এই জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা।
সড়কটি পলাশ বাজার থেকে শুরু হয়ে ধনপুর ও মাছিমপুর বাজার হয়ে লাউড়েরগড় বাজারে গিয়ে মিশেছে। এটি পলাশ, ধনপুর ও বাদাঘাট—এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থল হওয়ার পাশাপাশি তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান, বারেকটিলা ও নিলাদ্রি লেকে যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ। এমনকি ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার বাসিন্দারাও এই সীমান্ত সড়কটি যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পিচঢালা সড়কের অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন। বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সড়ক ভাঙার কারণে পর্যটকদের কাছে সুনামগঞ্জের বদনাম হচ্ছে। গাড়ি ঠিকমতো না পাওয়ায় আমরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি না।"
মাঝাই গ্রামের হোসেন আলী জানান যাতায়াতের করুণ চিত্র। তিনি বলেন, "১০ টাকার ভাড়া এখন ৫০ টাকা দিতে হয়। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া বা উৎপাদিত ধান বাড়িতে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই সড়কের চেয়ে আগের মাটির রাস্তাও ভালো ছিল।" এমনকি সড়কের এই বেহাল দশার কারণে এলাকায় আত্মীয়তা বা বিয়ে-শাদি দিতেও অনীহা প্রকাশ করছেন আশপাশের মানুষ।
রিকশাচালক ফয়েজ মিয়া বলেন, "এই রাস্তায় একবার রিকশা চালালে তিন দিন শরীরে ব্যথার কারণে শুয়ে থাকতে হয়। চাকা ভেঙে যায়, যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এভাবে আমাদের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।"
সড়ক সংস্কারের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, "আমরা এই সড়কের জন্য এর আগেও টেন্ডার আহ্বান করেছিলাম। কিন্তু কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে আবারও টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং অনুমোদন পাওয়ামাত্রই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।"
দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার করা না হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতের ব্যাপক সম্ভাবনায় ধস নামবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: