সুনামগঞ্জে সরিষা চাষে বিপ্লব: ৪ হাজার হেক্টর জমিতে হলুদের সমারোহ, আয়ের লক্ষ্য ৬৫ কোটি
Led Bottom Ad

সুনামগঞ্জে সরিষা চাষে বিপ্লব: ৪ হাজার হেক্টর জমিতে হলুদের সমারোহ, আয়ের লক্ষ্য ৬৫ কোটি

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২৬/০১/২০২৬ ১৭:৪৭:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​হাওর জেলা সুনামগঞ্জে ধান চাষের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সরিষা আবাদ। চলতি মৌসুমে জেলার পতিত ও অনাবাদি জমিতে সরিষার বাম্পার ফলন এবং কয়েক গুণ বেশি লাভের আশায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষি বিভাগের মতে, এবার জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ও আবাদ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

​সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২০ হাজার কৃষক ৪ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। এর মধ্যে ধর্মপাশা উপজেলায় সর্বাধিক ৭২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার আবাদ বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। কৃষি বিভাগের ধারণা, এ বছর উৎপাদিত সরিষার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

​বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক হালিম মিয়া সরিষা চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে খরচ হয় ৮-৯ হাজার টাকা, আর বিক্রি হয় বড়জোর ১৪ হাজার টাকায়। কিন্তু সরিষা চাষে মাত্র ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। অর্থাৎ ধানের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভ পাওয়া যায়।”

​কৃষকরা জানান, সরিষা চাষে পরিশ্রম ও পরিচর্যা অনেক কম। বারি-১৪, ১৭, ১৮ এবং বিনা-৯ ও ১১ জাতের সরিষা মাত্র ৭৫ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। ধান চাষের জন্য যে পরিমাণ সেচ ও সারের প্রয়োজন হয়, সরিষায় তার অর্ধেকও লাগে না। ফলে স্বল্প সময়ে এবং কম পুঁজিতে বেশি লাভের সুযোগ থাকায় কৃষকরা এখন সরিষামুখী হচ্ছেন।

​সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, “গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সরিষা চাষে অভাবনীয় সাড়া মিলেছে। আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে সরিষা চাষের পর ওই জমিতেই বোরো ধান চাষ করা যায় বলে কৃষকরা দ্বিগুণ লাভবান হচ্ছেন। ভবিষ্যতে এই আবাদ আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad