মাটি সংকটে হাওরের বাঁধ নির্মাণে স্থবিরতা, ফসল রক্ষা নিয়ে কৃষকদের শঙ্কা
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে তীব্র মাটি সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওরের হাজারো কৃষক। বিশেষ করে হাওরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত 'শালিকার বাঁধ' এলাকায় কাজ এগোচ্ছে না বললেই চলে।
নলুয়ার হাওরের ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) এলাকাগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাটি না পাওয়ায় অনেক স্থানে এস্কেভেটর মেশিন ও ডামট্রাক অলস বসিয়ে রাখা হয়েছে। মাটির আকাল মেটাতে অনেক পিআইসি বাধ্য হয়ে অন্যত্র থেকে মাটি কিনে আনছেন, আবার কেউ কেউ গভীর ডোবা থেকে পানি সেচ দিয়ে মাটি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ৭ ও ৯ নম্বর প্রকল্পে কাজ সবেমাত্র শুরু হলেও ৮ নম্বর প্রকল্পে এখনো কাজ শুরুই করা যায়নি। অথচ এই শালিকার বাঁধটি অতীতে ভেঙে কয়েকবার হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। ৪, ৫ ও ১০ নম্বর প্রকল্পে কাজ চললেও অন্যান্য এলাকায় মাটির অভাবে গতি নেই।
হাওরের কৃষক আতাউর রহমান ও কিরণ মিয়া জানান, বিগত বছরগুলোতে বাঁধের গোড়ার সব পতিত জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় এখন আর মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বলেন, "আমরা কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল বাঁচাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মজবুত বাঁধ চাই।"
৪নং পিআইসি সভাপতি অনিল দাস জানান, তার কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ৬, ৭, ৮ ও ৯ নং পিআইসির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যরা মাটি সংকটের কারণে চরম বিপাকে থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন, জগন্নাথপুর শাখার সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, "সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে কৃষকের বোরো ফসল রক্ষা করতে। মাটির দোহাই দিয়ে কাজ ফেলে রাখা চলবে না। কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে কাউকে খেলতে দেওয়া হবে না। আমরা দ্রুত ও মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানাই।"
উল্লেখ্য, গত বছরগুলোতে নির্ধারিত সময়ের পরে কাজ শেষ হওয়ায় এবং নিম্নমানের মাটির ব্যবহারের কারণে বাঁধ ভেঙে হাওর ডুবির ঘটনা ঘটেছিল। এবারও মৌসুমের শুরুতে মাটি সংকট সেই পুরনো শঙ্কাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: