হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া বনাম শেখ সুজাত: কার দিকে ঝুঁকবে নবীগঞ্জ-বাহুবল?
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে লড়াই কি ড. রেজা কিবরিয়ার পাণ্ডিত্যে নাকি শেখ সুজাত মিয়ার ‘চমক’ জাদুতে? আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে এখন এই প্রশ্নই জেলাজুড়ে আলোচনার তুঙ্গে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান আলী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় এখন এই আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঠ প্রস্তুত। ধানের শীষের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঘোড়া প্রতীক) শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। মোট ১৭৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী মাঠ ঘুরে দেখা যায়, উভয় প্রার্থীর সমর্থকরা সমানতালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নবীগঞ্জ-বাহুবলের পরিবেশকে রীতিমতো উত্তপ্ত করে তুলেছে।
শেখ সুজাতের ‘চমক’ ও তৃণমূলের সমীকরণ:
২০১১ সালের উপ-নির্বাচনে শেখ সুজাত মিয়া আওয়ামী লীগের দুর্গে প্রথম হানা দিয়ে সারা দেশে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। এবারও বিএনপির হেভিওয়েট এই নেতা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে নেমেছেন। বিএনপির তৃণমূলের একটি বড় অংশের সহমর্মিতা তাঁর পক্ষে রয়েছে। শেখ সুজাত বলেন, “২০১১ সালে জনগণের ভালোবাসায় জয়ী হয়েছিলাম। এবার কোনো দল নয়, জনগণই আমার শেষ ভরসা।”
রেজা কিবরিয়া ও পারিবারিক ঐতিহ্য:
অন্যদিকে, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া বাবার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নিজের শিক্ষিত ভাবমূর্তিকে পুঁজি করে শক্ত অবস্থানে আছেন। তাঁর সমর্থকদের প্রচার—বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রেজা কিবরিয়াই হবেন অর্থমন্ত্রী, যা শিক্ষিত ও তরুণ ভোটারদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ড. রেজা বলেন, “বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাই। আমি আশাবাদী মানুষ আমায় ভালোবাসবে।”
মাঠের লড়াইয়ে অন্যান্যরা:
যদিও এই আসনে ১১ দলীয় জোটের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (রিকশা), ইসলামিক ফ্রন্টের (চেয়ার) ও জাসদের (মোটরগাড়ি) প্রার্থীরা রয়েছেন, তবে ভোটারদের মতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ‘ধানের শীষ’ বনাম ‘ঘোড়া’র মধ্যে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
নবীগঞ্জ-বাহুবলে বিএনপির শক্তিশালী ভিত্তি থাকলেও দলটির ভোট এখন দুই প্রার্থীর মধ্যে বিভক্ত। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের একাংশ শেখ সুজাতের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ড. রেজার জন্য চ্যালেঞ্জ বেড়ে গেছে। তবে কিবরিয়া পরিবারের নিজস্ব ভোট ব্যাংক এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের আবেগ যদি রেজা কিবরিয়া ধরে রাখতে পারেন, তবে ফলাফল অন্যরকম হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত কি ২০১১ সালের মতো আবারও চমক দেখাবেন শেখ সুজাত, নাকি বাবার ঐতিহ্য ও প্রতীকের বলে জয়ী হবেন রেজা কিবরিয়া—তা দেখার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে হবিগঞ্জবাসীকে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: