হবিগঞ্জে চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দেড় ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা বন্ধ
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় চিকিৎসকরা প্রায় দেড় ঘণ্টা সেবা প্রদান বন্ধ রাখেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছিত চিকিৎসক নাঈম আশরাফ ওই সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ছিলেন।
হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের তমাল নামের এক যুবক তাঁর এক স্বজনকে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসা প্রদানকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ডা. নাঈম আশরাফের সঙ্গে ওই যুবকের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তমাল উত্তেজিত হয়ে ওই চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এই ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সহকর্মীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তার দাবিতে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেন। ফলে প্রায় দেড় ঘণ্টা হাসপাতালের জরুরি কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও গুরুতর অসুস্থ একাধিক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে স্ট্রেচারে ও অ্যাম্বুলেন্সে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হামলাকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসে রাত ৯টার দিকে পুনরায় চিকিৎসাসেবা চালু হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার বলেন, “চিকিৎসকদের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। কর্মস্থলে নিরাপত্তা না থাকলে স্বাভাবিক সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী যুবকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্ত যুবককে আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: