সুনামগঞ্জে রিটার্নিং অফিসার
‘উৎসবমুখর ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ করতে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন সুনামগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বিশ্বম্ভরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর এবং পৌর এলাকার নবীনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন কমিটির একাধিক সদস্য। এ সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসনের আগাম নিরাপত্তা ও সতর্কতা দাবি করেন।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের সমর্থক নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁদের নেতাকর্মীদের প্রতিপক্ষের ইশারায় পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে।
হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, “বিনা কারণে কাউকে হয়রানি করার সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। একটি ভয়ভীতিহীন নির্বাচন উপহার দিতে আমরা দিনরাত কাজ করছি।” জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াও আশ্বস্ত করে বলেন, হয়রানির কোনো ঘটনা ঘটলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি মেজর নকীব, সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন, এনএসআই ডিডি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হক ও পিপি অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল।
সভায় বক্তারা একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: