কমিটি গঠনে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি
শান্তিগঞ্জে এক পিআইসিতে বাপ–ছেলে!
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কাবিটা কর্মসূচির আওতায় হাওর এলাকায় ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত ও সংস্কারের জন্য সরকার প্রায় ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তবে এই অর্থ ব্যয়ের জন্য গঠিত একাধিক পিআইসি কমিটিতে নীতিমালা লঙ্ঘনের চিত্র পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত ৬৭টি পিআইসির মধ্যে অন্তত ২৪টিতে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক কমিটিতে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও তালিকা রদবদল করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরের ৫৮ নম্বর পিআইসিতে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন নাহিদ হাসান। তাঁর পিতা মো. সাইফুর রহমান এবং চাচা আলাউর রহমান একই কমিটির সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, সভাপতির মোবাইল নম্বর ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাঁর পিতা অন্য একটি পিআইসির সভাপতির মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছেন। এই পিআইসির আওতায় ৭১৫ মিটার বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।
খাই হাওরের ৫৫ নম্বর পিআইসির সেক্রেটারি আফজল হোসাইনের পিতা মো. শফিক মিয়া একই হাওরের একাধিক পিআইসির সদস্য। অভিযোগ অনুযায়ী, মূল তালিকা পরিবর্তন করে আফজল হোসাইনকে সেক্রেটারি করা হয় এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন পিআইসিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এ ছাড়া কাউয়াজুরী হাওরের ৬২ নম্বর পিআইসিতে সেক্রেটারি ও সদস্য হিসেবে দুই ভাই রয়েছেন। সভাপতি আনোয়ার হোসেন একই হাওর ও পাশের হাওরের একাধিক পিআইসির কাজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ডেকার, সাংহাই, ছাইল্লানি ও কাঁচিভাঙ্গা হাওরেও একাধিক পিআইসিতে সভাপতি, সেক্রেটারি ও সদস্য পদে রদবদল করে স্বজনদের বসানোর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব কমিটি পুনর্গঠনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. মনিরুজ্জামান মোহন এবং অফিস সহকারী পার্থ রায়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি পিআইসি অপ্রয়োজনীয় হলেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু পিআইসিতে কাজের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মোহনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “যা কিছু করা হয়েছে, সবই নীতিমালা মেনেই করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়।”
তবে স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা না হলে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ ও সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যাবে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: