বাদাঘাটের জনসমুদ্রে ঐক্যের ডাক, কামরুলের হাত ধরলেন বঞ্চিত নেতারা
Led Bottom Ad

বাদাঘাটের জনসমুদ্রে ঐক্যের ডাক, কামরুলের হাত ধরলেন বঞ্চিত নেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১০/০২/২০২৬ ০২:২৯:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভেদ ঝেড়ে ফেলে ধানের শীষের পক্ষে এক অভূতপূর্ব ‘ঐক্যের বিস্ফোরণ’ দেখালো বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাহিরপুরের ঐতিহাসিক বাদাঘাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভাটি রূপ নিয়েছিল এক বিশাল জনসমুদ্রে। তবে মাঠের বিশালতাকে ছাপিয়ে এই সভার প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল—মনোনয়ন বঞ্চিত সব হেভিওয়েট নেতার একমঞ্চে উপস্থিতি এবং প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের ঘোষণা।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ-১ আসনে দলের একাধিক শীর্ষ নেতার মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল, এই জনসভার মাধ্যমে তার অবসান ঘটল। ইতিপূর্বে যারা এই আসন থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং যাদের অনুসারীদের মধ্যে এক ধরণের স্থবিরতা বিরাজ করছিল, তারা সকলেই আজ প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের পাশে দাঁড়িয়ে হাত উঁচিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

​বক্তব্য দিতে গিয়ে বঞ্চিত নেতারা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে দলের আদর্শ এবং দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আজ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ছিল, কিন্তু কোনো প্রতিহিংসা নেই।" তাদের এমন বক্তব্যে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হয় এবং পুরো এলাকা ‘ধানের শীষ’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

দুপুর গড়ানোর আগেই হাওরাঞ্চলের চার উপজেলা থেকে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। বিকেলের মধ্যেই বাদাঘাট স্কুল মাঠ ছাড়িয়ে বাদাঘাট বাজারের অলিগলি, ভবনের ছাদ এবং আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। ব্যানার, ফেস্টুন আর ধানের শীষের প্রতিকৃতি নিয়ে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জনসভাকে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, "আজকের এই ঐক্যবদ্ধ জনস্রোত প্রমাণ করে সুনামগঞ্জ-১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমার অভিভাবকতুল্য যে নেতারা আজ উদারতা দেখিয়ে আমার হাতকে শক্তিশালী করেছেন, তাদের এই সম্মানের প্রতিদান আমি এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবা দিয়ে দেব। আমরা নির্বাচিত হলে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের চোখের জল মোছাতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেব।"

জনসভায় উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে মনোনয়ন বঞ্চিতদের এই সরব উপস্থিতি এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। দলীয় কোন্দল মিটে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের পক্ষে জোরালো হাওয়া বইতে শুরু করেছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

​সভায় অন্যান্যদের মধ্যে জেলা ও উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বিশাল এই জমায়েত সত্ত্বেও দলীয় ভলান্টিয়ারদের তৎপরতায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সভাটি সম্পন্ন হয়।

প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad