সুনামগঞ্জ-৫ আসন : আঞ্চলিক সমীকরণ ও আ.লীগ ভোট ব্যাংকই হবে জয়ের চাবিকাঠি
Led Bottom Ad

নির্বাচনি উত্তাপ এখন তুঙ্গে

সুনামগঞ্জ-৫ আসন : আঞ্চলিক সমীকরণ ও আ.লীগ ভোট ব্যাংকই হবে জয়ের চাবিকাঠি

আশিস রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক

১০/০২/২০২৬ ০২:৩৬:১৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারারাবাজার) আসনে নির্বাচনি উত্তাপ এখন তুঙ্গে। লড়াই এখন আর শুধু দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রূপ নিয়েছে আঞ্চলিক মেরুকরণ আর রাজনৈতিক কৌশলের যুদ্ধে। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ভোটের ময়দানে এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। ভোট যুদ্ধে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকবেন মিলন। তাঁর বিপরীতে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানী। বিএনপি-জামায়াতের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে চাইছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ খ্যাত  জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান এবারের নির্বাচনে অন্যতম ফ্যাক্টর। নির্বাচনি বিশ্লেষকদের মতে মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানীর মূল ভিত্তি হলো দক্ষিণ ছাতক। তিনি এই অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ায় উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া এই বিশাল অঞ্চলে জামায়াতের নিজস্ব ভোট ব্যাংক ছাড়াও মাদানীর ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। অন্যদিকে,  বৃহত্তর উত্তর সুরমা অঞ্চলে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কেবলমাত্র একবারই এমপি নির্বাচিত হয়েছিল জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আব্দুল মজিদ। এবার সুরমা নদীর উত্তর পার অর্থাৎ দোয়ারাবাজার ও সংলগ্ন ছাতকের আংশিক এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম। অবহেলিত উত্তর সুরমার মানুষের আঞ্চলিক আবেগ ও সমর্থনকে পুঁজি করে তিনি লাঙ্গলের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তাছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দলটির দীর্ঘদিনের বিশাল ‘ভোট ব্যাংক’ এখন এই তিন প্রার্থীর জন্যই প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কি বিএনপির বিজয় ঠেকাতে জামায়াতকে সমর্থন দেবে? নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতার খাতিরে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ খ্যাত জাতীয় পার্টির লাঙ্গল দিকে ঝুঁকবে? এই বিপুল পরিমাণ নীরব ভোটারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ছাতক-দোয়ারার আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি কে হবেন।

দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলতাফুর রহমান খসরু বলেন, "গত ১৭ বছর মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এবার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। ছাতক-দোয়ারার ঐক্যবদ্ধ জনতা ধানের শীষকে বিজয়ী করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।"

​উপজেলা জামায়াতের আমির ডাঃ হারুন অর রশীদ বলেন, "দক্ষিণ ছাতকসহ পুরো ছাতক-দোয়ারার মানুষ এখন জেগে উঠেছে। আমরা একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই। কাংখিত উন্নয়ন ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে মানুষ দাড়িপাল্লাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে ইনশাআল্লাহ।"

​উপজেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি রেনু মিয়া বলেন, "জাতীয় পার্টি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। তাই আমি মনে করি আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারসহ সর্বস্তরের মানুষ আমাদের কাছে নিরাপদ অনুভব করছেন। তাই তাঁরা লাঙ্গলকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। এছাড়া অবহেলিত ও উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া উত্তর সুরমা মানুষ এবার তাদের অভিভাবক নির্বাচিত করতে ভুল করবেনা।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad