সুনামগঞ্জ-২ আসন : যেখানে বিজয়ের প্রধান ফ্যাক্টর সংখ্যালঘু ভোট
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার সংখ্যালঘু ভোট সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৮০ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার এই আসনে ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দিরাই–শাল্লার রাজনৈতিক ইতিহাস দেখায়, এখানে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি দলীয় প্রতীকের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। একসময় বাম রাজনীতির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় নির্বাচনী সমীকরণ এখনো সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাব নিয়ে টানাটানির মধ্যে।
নাছির চৌধুরী, অভিজ্ঞ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, এই আসনের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত। তিনি ছাত্রজীবনে এমসি কলেজ ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ভিপি ছিলেন এবং আশির দশকে দুবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি হেভিওয়েট প্রার্থী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করেছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তির কারণে সংখ্যালঘু ভোটারদের বড় অংশ তার পক্ষে যেতে পারে।
অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনির তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত হলেও রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক কারণে তার সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের পেরুয়া গণহত্যার সাথে পরিবারের সংশ্লিষ্টতা ও দলীয় পরিচয় সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করতে পারে।
দিরাই ও শাল্লার তেরটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ছয়ের বেশি। বিগত নির্বাচনগুলোর পরিসংখ্যান দেখায়, নাছির চৌধুরী ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মধ্যে ভোট ব্যবধান সব সময়ই খুব সামান্য ছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়া সেনগুপ্ত জয়ী হলেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্রুত পরিবর্তন করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংখ্যালঘু ভোটাররা যদি নাছির চৌধুরীর পক্ষে একাট্টা হয়, তবে তার জয় সহজ হবে। অন্যদিকে, এই ভোটব্যাংক শিশু মনিরের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা আসনটিতে ভোটের ফলাফলকে নাটকীয়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: