বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি, বঙ্গবীর জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গনি (এম এ জি) ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লন্ডনের একটি হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন।
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এই ক্ষণজন্মা পুরুষ। তাঁর পৈতৃক নিবাস সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়। শৈশবে নিজ বাড়িতেই মা ও গৃহশিক্ষকের কাছে বাংলা ও ফার্সি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন এবং ইউনিভার্সিটি অফিসার্স ট্রেনিং কোরের সার্জেন্ট নিযুক্ত হন।
১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর তিনি অত্যন্ত দ্রুত পদোন্নতি পান। মাত্র ২৩ বছর বয়সে ব্রিটিশ আর্মির সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মার রণাঙ্গনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি আইসিএস পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর ১৯৪৮ সালে পিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে ডেপুটি ডাইরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশনের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে একজন স্বাধীনচেতা বাঙালি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ওসমানী ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কর্নেল পদে কর্মরত অবস্থায় অবসরে যান।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন তিনি। এরপর শুরু হয় তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়—বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিবাহিনীর প্রধান হিসেবে তাঁর অসামান্য সামরিক নেতৃত্বে পশ্চিম পাকিস্তানি বাহিনীর কবল থেকে দেশ মুক্ত হয়।
মৃত্যুর পর তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী, পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর দরগাহ সংলগ্ন কবরস্থানে মায়ের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: